নিজস্ব সংবাদদাতা, রানীগঞ্জ -: রানীগঞ্জ বোরো-২ কার্যালয় চত্বরে সিপিআই(এম)-এর শ্রমিক সংগঠন সিটুর পতাকা অপসারণকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার মণ্ডল-১ সভাপতি মনু বর্মার নেতৃত্বে বিজেপি কর্মীরা বোরো কার্যালয় প্রাঙ্গণে লাগানো সিটুর পতাকা খুলে সেখানে ভারতের জাতীয় পতাকা ও বিজেপির দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেতা রবি কেশরী, ভারতীয় জনতা যুব মোর্চা ও বিজেপির একাধিক নেতা-কর্মী।
ঘটনাস্থলে মনু বর্মা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি সরকারি কার্যালয়ে সিটুর পতাকা লাগানো ছিল, যা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর দাবি, বিষয়টি নিয়ে আগেই বোরো কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সেই কারণেই ভারতীয় জনতা যুব মোর্চা নিজেরাই পতাকাটি সরিয়ে দেয়।
তিনি আরও বলেন, “যে রাজনৈতিক দলকে বাংলার মানুষ বহু বছর আগে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে, সেই দলের শ্রমিক সংগঠনের পতাকা সরকারি কার্যালয়ে থাকা অনুচিত। তাই সেখানে জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষা করে তিরঙ্গা উত্তোলন করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে জাতীয় পতাকা যথাযথ সম্মানের সঙ্গে নামিয়ে নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, ঘটনার তীব্র নিন্দা করে সিটুর রানীগঞ্জ কো-অর্ডিনেশন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হেমন্ত প্রভাকর বলেন, “নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার অর্থ এই নয় যে কোনও রাজনৈতিক দল বা গণসংগঠনের অস্তিত্ব থাকবে না। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সকলেরই নিজস্ব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অধিকার রয়েছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, “বিজেপির যুব নেতারা যেভাবে আমাদের সংগঠনের পতাকা জোর করে খুলে দিয়েছেন, তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। অতীতে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে যে ধরনের অগণতান্ত্রিক আচরণের অভিযোগ উঠত, এখন বিজেপিও একই পথে হাঁটছে। একসময় অটল বিহারী বাজপেয়ীর মতো নেতারা যে গণতন্ত্রের আদর্শের কথা বলতেন, বর্তমান বিজেপির একাংশের আচরণ তার সম্পূর্ণ বিপরীত।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রানীগঞ্জের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
July 02, 2026
Rating:


No comments: