স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তপসী রেল সাইডিং পরিচালনায় এখনও প্রাক্তন বিধায়ক হরে রাম সিংয়ের পরিবারের প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শ্রমিকদের একাংশের দাবি, প্রাক্তন বিধায়কের ছেলে প্রেমপাল সিং এবং তাঁর এক আত্মীয় সাইডিংয়ের পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা নিশ্চিতকরণ মেলেনি।
শ্রমিকদের অভিযোগ, তপসী রেল সাইডিংয়ের উপর নির্ভর করে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন শ্রমিক, ডাম্পার চালক এবং পরিবহণ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বহু পরিবার জীবিকা নির্বাহ করেন। অথচ নিয়মিত সময়ে বেতন না পাওয়া, বিভিন্ন প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং কর্মপরিবেশের একাধিক সমস্যায় তাঁদের নিত্যদিনের জীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এর ফলে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে শ্রমিক মহলে।
অন্যদিকে, শিল্পাঞ্চলের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ আরও উদ্বেগজনক। তাঁদের দাবি, রেল র্যাকে আসা কয়লা, লৌহ আকরিকসহ বিভিন্ন কাঁচামাল সময়মতো আনলোড না হওয়ায় প্রতিদিনই আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। রেলের নির্ধারিত সময় অতিক্রম করলে অতিরিক্ত চার্জ ও জরিমানা গুনতে হচ্ছে, যার ফলে প্রতি ঘণ্টায় হাজার হাজার টাকার অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা বইতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিল্প উৎপাদন এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উপর।
উল্লেখ্য, তপসী রেল সাইডিং রানীগঞ্জ, জামুড়িয়া এবং মেজিয়া শিল্পাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক কেন্দ্র। এই সাইডিংয়ের মাধ্যমে রেলপথে আসা কয়লা ও অন্যান্য কাঁচামাল ডাম্পারের মাধ্যমে বিভিন্ন কারখানায় পৌঁছে দেওয়া হয়। ফলে এখানে সামান্য অব্যবস্থাপনা বা বিলম্বও গোটা শিল্পাঞ্চলের উৎপাদন ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করছেন শিল্পমহলের একাংশ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন, স্বচ্ছ পরিচালন ব্যবস্থা এবং সময়মতো আনলোডিং নিশ্চিত করা না গেলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাঁদের দাবি, বিষয়টি রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, শিল্প ও শ্রমিক স্বার্থে বিচার করে প্রশাসনের উচিত সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তদন্ত করা।
শ্রমিক, পরিবহণ ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় মানুষের একটাই দাবি—তপসী রেল সাইডিংয়ের পরিচালনা, শ্রমিকদের বেতন প্রদান, কর্মপরিবেশ এবং উত্থাপিত সমস্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। তদন্তে যদি কোনও ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ মেলে, তবে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তাঁদের বিশ্বাস, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক উদ্যোগই পারে শিল্পাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ রেল সাইডিংকে আবারও সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে পরিচালিত করতে।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
July 22, 2026
Rating:


No comments: