বিজ্ঞানের আলো, প্রতি ঘরে জ্বালো” — ৪০ বছরে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ, রানীগঞ্জে দুই দিনের বিজ্ঞান-সংস্কৃতির উৎসবে উপচে পড়ল পড়ুয়াদের ভিড়
নিজস্ব সংবাদদাতা, রানীগঞ্জ -: বিজ্ঞানকে বইয়ের পাতার গণ্ডি থেকে বের করে ছাত্রছাত্রীদের হাতে-কলমে শেখার আনন্দ পৌঁছে দিতে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে রানীগঞ্জে অনুষ্ঠিত হল এক বর্ণাঢ্য বিজ্ঞান-সংস্কৃতির উৎসব। শনিবার ও রবিবার রানীগঞ্জ স্টুডেন্ট হেলথ হোম ভবনে আয়োজিত এই দুই দিনের অনুষ্ঠানে বিজ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা এবং পরিবেশ সচেতনতার এক অনন্য মেলবন্ধন প্রত্যক্ষ করলেন উপস্থিত শিক্ষক, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ।
রানীগঞ্জ বিজ্ঞান কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের পাঁচ শতাধিক ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবক উৎসাহের সঙ্গে অংশ নেন। কুইজ, বসে আঁকো, প্রবন্ধ রচনা এবং বিজ্ঞানভিত্তিক মডেল প্রতিযোগিতাকে ঘিরে দিনভর ছিল উৎসবের আবহ।
সবচেয়ে বেশি আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে বিজ্ঞান মডেল প্রদর্শনী। পড়ুয়াদের তৈরি সৌরশক্তির ব্যবহার, জল সংরক্ষণ, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রসহ একাধিক অভিনব মডেল দর্শকদের নজর কেড়ে নেয়। ছোট ছোট বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও সৃজনশীল উপস্থাপনা প্রশংসা কুড়িয়েছে সকলের।
শুধু প্রতিযোগিতাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি অনুষ্ঠান। বিজ্ঞানকে সহজ ও আনন্দদায়ক করে তুলতে গল্প, খেলা এবং হাতে-কলমে পরীক্ষার মাধ্যমে নানা বৈজ্ঞানিক বিষয় ছাত্রছাত্রীদের সামনে তুলে ধরা হয়। ফলে বিজ্ঞান যে শুধুমাত্র পরীক্ষার বিষয় নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত— সেই বার্তাই পৌঁছে যায় নতুন প্রজন্মের কাছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের পশ্চিম বর্ধমান জেলা সম্পাদক কল্লোল ঘোষ বলেন,
“চার দশক ধরে আমাদের লক্ষ্য কুসংস্কারমুক্ত, বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গড়ে তোলা। ‘বিজ্ঞানের আলো, প্রতি ঘরে জ্বালো’ শুধু একটি স্লোগান নয়, এটি আমাদের সামাজিক অঙ্গীকার। আজকের শিশুদের মধ্যে প্রশ্ন করার সাহস, যুক্তিবাদী চিন্তা এবং পরীক্ষার মানসিকতা গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিতোষ বিশ্বাস, দেবব্রত দাশগুপ্ত, নির্মাল্য সরকার, কাজল পাল, অভিজিৎ রায়-সহ বিজ্ঞান আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি।
বিজ্ঞানচর্চার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তাও তুলে ধরে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ। সংগঠনের উদ্যোগে রানীগঞ্জ কয়লাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পালন করা হচ্ছে। আয়োজকদের মতে, বিজ্ঞান ও পরিবেশ— দুটিই একে অপরের পরিপূরক, তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই দুই ক্ষেত্রেই সচেতন করে তোলা সময়ের দাবি।
দুই দিনের এই উৎসব আরও একবার প্রমাণ করল, বিজ্ঞান শুধু গবেষণাগার বা পাঠ্যবইয়ের বিষয় নয়। কৌতূহল, যুক্তিবাদী চিন্তা, সৃজনশীলতা এবং প্রকৃতির প্রতি দায়বদ্ধতার মধ্য দিয়েই গড়ে ওঠে আগামী দিনের বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ। পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের ৪০ বছরের এই উদ্যাপন সেই বার্তাকেই নতুন করে মানুষের কাছে পৌঁছে দিল।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
July 12, 2026
Rating:

No comments: