নিজস্ব সংবাদদাতা, সালানপুর -: পশ্চিম বর্ধমান জেলার সালানপুর এলাকায় অবৈধ বালি পাচার ও মজুতের বিরুদ্ধে ফের কড়া পদক্ষেপ নিল রূপনারায়ণপুর পুলিশ ফাঁড়ি। বুধবার ভোরে গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জিতপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বালিভর্তি একটি ট্র্যাক্টর বাজেয়াপ্ত করা হয়। ঘটনায় ট্র্যাক্টরের চালক উমেশ সোরেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোর প্রায় চারটে নাগাদ অভিযান শুরু হয়। জিতপুর এলাকায় সন্দেহজনকভাবে চলাচল করা ট্র্যাক্টরটি আটক করে পুলিশ। এরপর চালকের কাছে বালি পরিবহনের বৈধ নথিপত্র চাওয়া হলে তিনি কোনও বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগ। এর পরেই ট্র্যাক্টরটি বাজেয়াপ্ত করে চালককে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তে বাজেয়াপ্ত ট্র্যাক্টরের মালিক হিসেবে লাল্টু মান্নার নাম উঠে এসেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। পাশাপাশি স্থানীয় সূত্রের দাবি, জিতপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ বালি মজুত করে রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হতো। এই ঘটনায় সুকুমার মণ্ডলের নামও স্থানীয় মহলে আলোচনায় উঠে এসেছে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী আধিকারিকরা।
ধৃত উমেশ সোরেনকে বুধবার আসানসোল আদালতে তোলা হয়। তদন্তের স্বার্থে গোটা চক্রের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে এবং অবৈধ বালি পাচারের নেপথ্যের মূল হোতাদের সন্ধান পেতে পুলিশ আদালতের কাছে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানিয়েছে।
এই অভিযানের পর জিতপুর-সহ গোটা সালানপুর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় অবৈধ বালির কারবার চলছিল। পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযানের ফলে এই বেআইনি ব্যবসার বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তাঁদের আশা।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বালির উৎস, মজুত ও সরবরাহ চক্র এবং এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে আগামী দিনে আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হতে পারে বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
July 29, 2026
Rating:


No comments: