নিজস্ব সংবাদদাতা, জামুড়িয়া -: সুপার স্মেল্টার্স কারখানায় কর্মরত এক শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনার অবসান ঘটল পুলিশের মধ্যস্থতায়। মৃত শ্রমিকের পরিবারকে মোট ১৭ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা এবং সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়ার পর বুধবার সন্ধ্যায় কারখানা কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের মধ্যে সমঝোতা হয়। এরপরই জে কে নগর এলাকার বাসিন্দারা তাদের বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে নেন এবং কারখানার কাজও স্বাভাবিক হয়ে যায়।
মৃত শ্রমিকের নাম সন্তোষ কাহার (৪৫)। তিনি জামুড়িয়ার জে কে নগরের বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে সুপার স্মেল্টার্সে কর্মরত ছিলেন। মঙ্গলবার সকালে কারখানায় কাজ করার সময় গুরুতরভাবে দগ্ধ হন তিনি। প্রথমে তাঁকে আসানসোলের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় পরে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
শ্রমিকের মৃত্যুর পর ক্ষতিপূরণ প্রদানে কারখানা কর্তৃপক্ষের গড়িমসির অভিযোগ তুলে বুধবার সকাল থেকেই কারখানার মূল ফটকের সামনে বিক্ষোভে সামিল হন জে কে নগর ও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জামুড়িয়া থানার পুলিশ। পুলিশের উদ্যোগে কারখানা কর্তৃপক্ষ ও মৃতের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
দীর্ঘ বৈঠকের পর সমঝোতা সূত্রে জানানো হয়, মৃত শ্রমিকের পরিবারকে ১৬ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ, শেষকৃত্যের জন্য অতিরিক্ত ১ লক্ষ টাকা এবং মৃতের সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
বিজেপির জামুড়িয়া কনভেনর ব্রিজমোহন পাসওয়ান জানান, আলোচনার মাধ্যমে পরিবারের দাবি মেনে নেওয়ায় আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়েছে। সমঝোতার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং কারখানার উৎপাদনও পুনরায় শুরু হয়।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
July 15, 2026
Rating:

No comments: