রানীগঞ্জ রাজবাড়ির রথমেলায় অভিনব উদ্যোগ, উদ্বোধন হল ‘ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী আরবিট্রেশন অ্যান্ড মেডিয়েশন সেন্টার’
যীশু হেমব্রম , রানীগঞ্জ /পশ্চিম বর্ধমান -: শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য, ধর্মীয় আবেগ ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলার পাশাপাশি এবার এক ব্যতিক্রমী সামাজিক উদ্যোগের সাক্ষী থাকল রানীগঞ্জ রাজবাড়ির ঐতিহ্যবাহী রথমেলা। বহু দশক ধরে চলে আসা এই ঐতিহ্যবাহী রথ উৎসবে প্রতি বছরের মতো এবারও হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হলেও, চতুর্থ দিনে রাজপরিবারের উদ্যোগে যোগ হল এক নতুন মাত্রা—সাধারণ মানুষের জন্য বিকল্প আইনি পরিষেবার পথ সুগম করতে উদ্বোধন করা হল ‘ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী আরবিট্রেশন অ্যান্ড মেডিয়েশন সেন্টার’।
রবিবার রানীগঞ্জ রাজবাড়ি প্রাঙ্গণে রাজপরিবার এবং কলকাতা উচ্চ আদালতের আইনজীবী স্বপ্নিল মুখার্জীর যৌথ উদ্যোগে এই কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে কেন্দ্রটির উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন জেলা বিচারক মদন মোহন মিশ্র, কলকাতা উচ্চ আদালতের আইনজীবী কেতন মাখারিয়া, দেবানন্দ মহারাজ, রাজপরিবারের সদস্য অনুরাধা মালিয়া শরাফ-সহ আইনজীবী, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা।
উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কলকাতা উচ্চ আদালতের আইনজীবী স্বপ্নিল মুখার্জী বলেন, আদালতে মামলা নিষ্পত্তির দীর্ঘ সময়, ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া এবং জটিল আইনি ব্যবস্থার কারণে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলি প্রায়ই সমস্যার সম্মুখীন হন। সেই বাস্তবতা থেকেই বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এই আরবিট্রেশন ও মেডিয়েশন সেন্টারের সূচনা করা হয়েছে।
তিনি জানান, পশ্চিম বর্ধমান-সহ পশ্চিমবঙ্গের যেকোনো প্রান্তের মানুষ এই কেন্দ্রের মাধ্যমে নিজেদের আইনি সমস্যা, পারিবারিক বিরোধ, সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিবাদ বা অন্যান্য নাগরিক সমস্যার বিষয়ে পরামর্শ নিতে পারবেন। অভিজ্ঞ আইনজীবীদের সহযোগিতায় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিনা খরচায় প্রাথমিক পরামর্শ ও সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি রথমেলা শেষ হওয়ার পরও নির্দিষ্ট কার্যালয় থেকে এই পরিষেবা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাজপরিবারের সদস্য অনুরাধা মালিয়া শরাফ বলেন, রথমেলা শুধুমাত্র ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক গড়ে তোলারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সেই ভাবনা থেকেই সাধারণ মানুষের কল্যাণে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, এই কেন্দ্রের মাধ্যমে মানুষ সময়, অর্থ ও অপ্রয়োজনীয় আইনি জটিলতা—তিন ক্ষেত্রেই উপকৃত হবেন। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে অনেক সমস্যা আদালতের বাইরে আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে, যা সমাজের জন্যও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
ঐতিহ্যের সঙ্গে জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের এই সংযোজন রানীগঞ্জ রাজবাড়ির রথমেলাকে এ বছর এক নতুন পরিচয় দিয়েছে বলে মনে করছেন উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা। আইন সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি এবং সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে উদ্যোক্তাদের আশা।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
July 19, 2026
Rating:


No comments: