জামুড়িয়া ,পশ্চিম বর্ধমান -: বহু বছরের ঐতিহ্যবাহী শ্মশানভূমি রক্ষার দাবিতে এবার রাস্তায় নামলেন কুনুস্তোড়িয়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দারা। তপসি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত কুনুস্তোড়িয়ায় বাবা হোটেলের সংলগ্ন শ্মশানঘাটের জমি কথিতভাবে অবৈধ দখলের চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বুধবার ব্যাপক বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় মানুষ। তাঁদের অভিযোগ, দিনের পর দিন ডাম্পারে করে ছাই ফেলে শ্মশানের জমি ভরাট করে জমির চরিত্র বদলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, অথচ বারবার অভিযোগ জানিয়েও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
বিক্ষোভকারী গ্রামবাসীদের দাবি, এই শ্মশানঘাট শুধু তপসি গ্রাম পঞ্চায়েতের মানুষের নয়, রানীগঞ্জের আমড়াসোতা গ্রাম পঞ্চায়েত-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার বহু মানুষ বছরের পর বছর ধরে শেষকৃত্যের জন্য এই শ্মশানের উপর নির্ভরশীল। তাই এটি কেবল একটি জমির বিষয় নয়, হাজার হাজার মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস, সামাজিক ঐতিহ্য এবং জনস্বার্থের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কথিত ভূমি মাফিয়ারা ডাম্পারে করে ছাই ফেলে ধাপে ধাপে শ্মশানভূমি দখলের চেষ্টা করছে। এই ভরাটের ফলে শ্মশানের প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, গাছপালার ক্ষতি হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে শেষকৃত্যের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গ্রামবাসীদের বক্তব্য, এর আগেও একাধিকবার তাঁরা পঞ্চায়েত ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ জানিয়েছেন। অভিযোগের পর সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই ফের ডাম্পার এনে ভরাটের কাজ শুরু হয়ে যায়। এতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এদিন খবর পেয়ে শতাধিক মানুষ শ্মশানঘাটে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান। উত্তেজনা বাড়তে থাকলে অভিযুক্তরা কাজ বন্ধ করে এলাকা ছেড়ে চলে যায়। তবে গ্রামবাসীদের দাবি, শুধুমাত্র কাজ বন্ধ করলেই হবে না, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে এবং শ্মশানভূমির সীমানা সরকারি ভাবে নির্ধারণ করে স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখতে হবে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, বারবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও প্রশাসন এতদিন কেন নীরব ছিল? অভিযোগ পাওয়ার পরও যদি কোনও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে কি ভূমি মাফিয়ারা আরও উৎসাহিত হবে না?
বিক্ষোভকারীরা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, প্রশাসন যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তাঁদের বক্তব্য, মৃত মানুষের শেষকৃত্যের জন্য ব্যবহৃত শ্মশানভূমিও যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবেন? প্রশাসন কি এবার সত্যিই কথিত ভূমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবে, নাকি অবৈধ দখলদারদের দৌরাত্ম্য চলতেই থাকবে? নাকি নিজেদের অধিকার এবং শ্মশানভূমি রক্ষার দাবিতে এলাকাবাসীকেই বারবার আন্দোলনের পথে নামতে হবে?
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে শ্মশানভূমি দখলের অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, অবৈধ ভরাট বন্ধ, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং শ্মশানঘাটের সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
এদিনের বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন খোড়ু রুইদাস, রাকেশ গিরি, তপন বাউরি, বাবন রুইদাস, জিতন রুইদাস, ভাদু রুইদাস, সুখী রুইদাস, লীলা গোরাই, লিলু কোড়া, অশোক রুইদাস, ধনু রুইদাস, প্রসেনজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, অজিত কোড়া, শিবরাম মণ্ডল, আদিত্য বাউরি-সহ বিপুল সংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
July 16, 2026
Rating:


No comments: