নিজস্ব সংবাদদাতা, কুলটি -: গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুলটি থানার নিয়ামতপুর ফাঁড়ির পুলিশ রাধানগর এলাকায় একটি সন্দেহভাজন অবৈধ লোহা কাটাই কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সামগ্রী উদ্ধার করেছে। অভিযানে প্রায় ৪ হাজার কেজি ঢালাই রড, একটি গ্যাস কাটার মেশিন, একটি ওজন মাপার যন্ত্র এবং কাটাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একাধিক সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রের দাবি, কারখানাটির মালিক বাবলু সাও নামে এক ব্যক্তি। তবে অভিযানের খবর পেয়েই তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ। পলাতক অভিযুক্তের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে কারখানার কর্মী জয় কুমার রবি দাসকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার তাকে আসানসোল জেলা আদালতে তোলা হয়। তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্তের ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
তদন্তকারীরা উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ লোহার উৎস খতিয়ে দেখছেন। ওই লোহা বৈধভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে, নাকি তা চুরি করা—সেই বিষয়টি তদন্তের আওতায় রয়েছে। একই সঙ্গে এই ব্যবসার সঙ্গে অন্য কোনও ব্যক্তি বা চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এর নেপথ্যে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, কুলটি-নিয়ামতপুর শিল্পাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ লোহা কাটাই ও চুরি হওয়া লোহা পাচারের অভিযোগ উঠছিল। সাম্প্রতিক এই অভিযানের পর গোটা এলাকায় অবৈধ লোহা ব্যবসার বিরুদ্ধে নজরদারি আরও জোরদার হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।
এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, এই ধরনের বেআইনি কারখানার কারণে শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, পরিবেশ দূষণ এবং শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হচ্ছে। তাই নিয়মিত অভিযান ও কঠোর প্রশাসনিক নজরদারির দাবি উঠেছে।
পুলিশের তদন্ত এখন মূলত পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা এবং এই অবৈধ কারবারের সঙ্গে জড়িত সম্ভাব্য নেটওয়ার্কের সন্ধান ঘিরেই এগোচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলির সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে তদন্তকারী মহল জানিয়েছে।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
July 28, 2026
Rating:

No comments: