নিজস্ব সংবাদদাতা, আসানসোল -: পশ্চিমবঙ্গের পুর প্রশাসনে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। প্রশাসনিক অচলাবস্থা ও একাধিক অভিযোগের জেরে আসানসোল পুরনিগম ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে রাজ্যের পৌর ও নগর উন্নয়ন দপ্তর। ৭ জুলাই, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ পৌর কর্পোরেশন আইন, ২০০৬-এর ৬০(১) ধারার অধীনে অবিলম্বে আসানসোল পুরনিগমকে ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে আইএএস অফিসার অদিতি চৌধুরীকে। তিনি বর্তমানে আসানসোল-দুর্গাপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এডিডিএ)-র মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক (সিইও) এবং এর আগে আসানসোল পুরনিগমের পুর কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী সর্বোচ্চ ছয় মাস অথবা নতুন নির্বাচিত পুরবোর্ড দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রশাসকের সমস্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন তিনি।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, নাগরিক পরিষেবা যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয় এবং প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসকের নেতৃত্বে পুরনিগমের সমস্ত প্রশাসনিক ও নাগরিক পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের আগে আসানসোল পুরনিগমকে একাধিক বিষয়ে শো-কজ নোটিশ পাঠিয়েছিল রাজ্যের পৌর ও নগর উন্নয়ন দপ্তর। অভিযোগের তালিকায় ছিল বোর্ড সভা সংক্রান্ত অনিয়ম, সম্পত্তি কর মকুবের সিদ্ধান্ত, প্রশাসনিক অচলাবস্থা, আর্থিক ব্যবস্থাপনার প্রশ্ন এবং নাগরিক পরিষেবা প্রদানে ব্যর্থতার মতো একাধিক বিষয়। মঙ্গলবার মেয়র বিধান উপাধ্যায় ই-মেইলের মাধ্যমে ছয় পাতার বিস্তারিত জবাব পাঠালেও সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি রাজ্য সরকার বলেই প্রশাসনিক মহলের দাবি।
এদিকে, পুরবোর্ডের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছিল। ১০৬ সদস্যের বোর্ডে ইতিমধ্যেই ৬ জন কাউন্সিলর এবং ২ জন বোরো চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেছেন। পাশাপাশি কাউন্সিলরদের সাম্মানিক ভাতা এবং সরকারি গাড়ির জন্য বরাদ্দ ১০ লিটার পেট্রোলও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। ফলে পুরবোর্ডে প্রশাসনিক সংকট ও ভাঙনের ছবি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। শো-কজ নোটিশ পাওয়ার পর মেয়র বিধান উপাধ্যায় কলকাতায় গিয়ে তৃণমূলের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা ছড়ায়। যদিও নিজের জবাবি চিঠিতে মেয়র সরকারের অধিকাংশ অভিযোগ অস্বীকার করে প্রশাসনিক সমস্যার জন্য পুর কমিশনারের অসহযোগিতাকেই দায়ী করেছেন।
রাজ্যের এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই পশ্চিমবঙ্গের পুর প্রশাসনের সাম্প্রতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। এখন নজর থাকবে প্রশাসক অদিতি চৌধুরীর নেতৃত্বে আসানসোল পুরনিগমের নাগরিক পরিষেবা কত দ্রুত স্বাভাবিক হয় এবং নতুন পুরবোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া কোন পথে এগোয়।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
July 08, 2026
Rating:

No comments: