নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর -: দীর্ঘদিন ধরে অজয় নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পাচারের অভিযোগে অবশেষে বড়সড় পদক্ষেপ নিল কাঁকসা থানার পুলিশ। শনিবার গভীর রাতে বিদবিহার এলাকার বাসিন্দা অজয় হাড়িকে গ্রেফতার করা হয়। রবিবার তাকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে পুলিশ অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানায়। তদন্তকারীদের আশা, জেরার মাধ্যমে অবৈধ বালু পাচার চক্রের আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই অজয় নদীর বিভিন্ন ঘাট থেকে রাতের অন্ধকারে অবৈধভাবে বালু তোলা হতো। অভিযোগ, বিদবিহার, বনকাটি-সহ সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্র্যাক্টর ও ডাম্পারে করে বালু পাচার করা হতো। পরে সেই বালু বিভিন্ন ফাঁকা জমিতে মজুত রেখে সুযোগ বুঝে বাজারে সরবরাহ করা হতো। এই সমগ্র চক্রের অন্যতম মূলচক্রী হিসেবে অজয় হাড়ির নাম উঠে এসেছে।
এই গ্রেফতারির পর এলাকাজুড়ে নতুন করে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের প্রশ্ন, বছরের পর বছর ধরে যদি প্রকাশ্যেই এই অবৈধ বালুর কারবার চলতে থাকে, তবে প্রশাসনের নজরে তা এতদিন কেন আসেনি? এতদিন ব্যবস্থা না নেওয়া নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া এত বড় অবৈধ বালুর ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরে চালানো সম্ভব নয়। তারা দাবি করেছে, শুধুমাত্র একজনকে গ্রেফতার করলেই দায়িত্ব শেষ নয়; এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত প্রকৃত মদতদাতা ও লাভবানদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।
অন্যদিকে কাঁকসা থানার পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচারের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। আদালত থেকে পুলিশি হেফাজত মিললে অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি, পরিবহণকারী ও মজুতকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হবে।
একজন অভিযুক্তের গ্রেফতারিতে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও প্রশ্ন এখনও রয়ে গিয়েছে—অজয় নদ থেকে অবৈধ বালু পাচারের এই বিশাল কারবারের নেপথ্যে কি শুধুই একজন, নাকি সক্রিয় রয়েছে আরও বড় ও সংঘবদ্ধ একটি চক্র? সেই উত্তরই এখন খুঁজছে পুলিশ।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
July 05, 2026
Rating:

No comments: