প্রতিবেদক, কলকাতা -: জাতিগত শংসাপত্র তৈরি বা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আর কোনও আবেদনকারীর কাছে ১৯৫০ সালের আগের জমির দলিল চাওয়া যাবে না। এ নিয়ে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসকদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতর। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জেলায় আবেদনকারীদের কাছ থেকে এমন পুরনো জমির নথি চাওয়ার অভিযোগ সামনে আসার পরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
দফতরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জাতিগত শংসাপত্র প্রদান বা যাচাইয়ের জন্য জমির দলিল বাধ্যতামূলক নয়। বিশেষ করে ১৯৫০ সালের আগের জমির নথি চাওয়ার কোনও আইনি বা প্রশাসনিক ভিত্তি নেই। ২০১৪ এবং ২০১৫ সালের সরকারি নির্দেশিকাতেও এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা ছিল। সেই পুরনো নির্দেশিকাই পুনরায় কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছিল, বিভিন্ন জেলায় বিশেষ করে ওবিসি শংসাপত্রের আবেদন যাচাইয়ের সময় বহু আবেদনকারীর কাছে ১৯৫০ সালের আগের জমির দলিল চাওয়া হচ্ছে। এত পুরনো নথি অধিকাংশ পরিবারের কাছে সংরক্ষিত না থাকায় সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছিল। ফলে শংসাপত্র তৈরি ও নবীকরণের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছিল বলেও অভিযোগ ছিল।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে নবান্নের নির্দেশে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আবেদনকারীদের অযথা হয়রানি করা যাবে না। নির্ধারিত সরকারি নিয়ম মেনেই যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে এবং কোনও অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় নথি চাওয়া যাবে না।
উল্লেখ্য, পূর্বে জাতিগত শংসাপত্র প্রদান নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের জেরে কলকাতা হাই কোর্ট ২০১১ সালের পর ইস্যু হওয়া একাধিক শংসাপত্র বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে বর্তমানে শংসাপত্র পুনরায় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। তবে এই যাচাইকরণ যাতে স্বচ্ছ, নিয়মমাফিক এবং সাধারণ মানুষের জন্য হয়রানিমুক্ত হয়, তা নিশ্চিত করতেই রাজ্য সরকারের এই নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
July 23, 2026
Rating:

No comments: