কেন্দা ওপেন কাস্ট খনির বিস্ফোরণের পর জলশূন্য পুকুর, আতঙ্কে গ্রামবাসী; খনি কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
জামুড়িয়া, নিজস্ব সংবাদদাতা -: জামুড়িয়ার ইসিএলের কেন্দা ওপেন কাস্ট (খোলা মুখ) কয়লা খনিতে শনিবার গভীর রাতে নিয়মিত কয়লা উত্তোলনের উদ্দেশ্যে বিস্ফোরণের পর রবিবার সকালে কেন্দা গ্রামে একটি পুকুর প্রায় সম্পূর্ণ জলশূন্য হয়ে পড়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার জেরে গ্রামবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, খনিতে বিস্ফোরণের অভিঘাতে পুকুরের বাঁধের একাংশ ভেঙে যায়। এর ফলে মুহূর্তের মধ্যে পুকুরের বিপুল পরিমাণ জল খোলা মুখ খনির দিকে নেমে যায়। রবিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে এলাকাবাসী দেখেন, দীর্ঘদিনের জলভাণ্ডার হিসেবে ব্যবহৃত পুকুরটি প্রায় সম্পূর্ণ জলশূন্য হয়ে পড়েছে।
গ্রামবাসীদের দাবি, ওই পুকুরের জল শুধু গৃহস্থালির কাজেই নয়, পশুপালন, কৃষিকাজ এবং নিত্যদিনের নানা প্রয়োজনে ব্যবহার করা হতো। এক রাতের মধ্যেই পুকুর খালি হয়ে যাওয়ায় এলাকার বহু পরিবার চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে আশপাশের পরিবেশ ও জনজীবনের ওপর আরও বড় প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খনিতে বিস্ফোরণের আগে বা পরে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে কোনও ধরনের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি বিস্ফোরণের ফলে আশপাশের এলাকায় কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, সে বিষয়েও খনি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনও স্পষ্ট পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এই ঘটনায় ইসিএল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গ্রামবাসীরা।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে পুকুরের ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন, জল সংরক্ষণের ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।
তবে এই ঘটনার বিষয়ে ইসিএল বা খনি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। প্রশাসনিক তদন্ত এবং খনি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন কেন্দা গ্রামের বাসিন্দারা।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
July 12, 2026
Rating:


No comments: