রাননীগঞ্জ, পশ্চিম বর্ধমান -: খেলার মাঠেই তুলে ধরা হল সাহস, মানবিকতা ও আত্মত্যাগের এক অনন্য ইতিহাস। ১৯৮৯ সালের মহাবীর কোলিয়ারি উদ্ধার অভিযানের নায়ক জস্বন্ত সিং গিলের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শনিবার রানীগঞ্জের এগারা ইউনাইটেড ইউথ অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে শুরু হল নকআউট ফুটবল টুর্নামেন্ট ‘গিল কাপ’।
১৯৮৯ সালে রানীগঞ্জের মহাবীর কোলিয়ারিতে কয়লা উত্তোলনের সময় আচমকাই ভূগর্ভস্থ জল ঢুকে পড়ায় খনির একটি বড় অংশ প্লাবিত হয়ে যায়। সেই দুর্ঘটনায় বহু শ্রমিক খনির গভীরে আটকে পড়েন। তৎকালীন খনি প্রকৌশলী জস্বন্ত সিং গিল সংকটময় পরিস্থিতিতে অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দেন। প্রচলিত উদ্ধার ব্যবস্থা কার্যকর না হওয়ায় তিনি নিজেই একটি বিশেষ স্টিলের উদ্ধার ক্যাপসুলের নকশা তৈরি করেন। মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সেই ক্যাপসুল নির্মাণের পর নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি খনির গভীরে প্রবেশ করেন এবং একে একে ৬৫ জন শ্রমিককে নিরাপদে উদ্ধার করেন। ভারতীয় খনি উদ্ধার অভিযানের ইতিহাসে এই ঘটনাকে আজও এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এই অসামান্য বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁর কৃতিত্ব জাতীয় রেকর্ড হিসেবে ওয়ার্ল্ড বুক অফ রেকর্ডসে নথিভুক্ত হয়। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতির হাত থেকে তিনি লাভ করেন ‘সর্বোত্তম জীবন রক্ষা পদক’।
এই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই ইউনাইটেড ইউথ অ্যাসোসিয়েশন ‘গিল কাপ’-এর আয়োজন করেছে। টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন বিজেপির পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতি দেবতানু ভট্টাচার্য। উপস্থিত ছিলেন যুব মোর্চার সভাপতি অভিক মণ্ডল, সমাজসেবী তাপস তেওয়ারি, অ্যাডভোকেট স্বপ্নীল মুখার্জি-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি।
টুর্নামেন্টের সূচনায় মহিলাদের একটি প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করে এবং অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে।
আয়োজকদের বক্তব্য, ‘গিল কাপ’ কেবল একটি ফুটবল প্রতিযোগিতা নয়; এটি সাহস, কর্তব্যবোধ, মানবিকতা এবং আত্মত্যাগের এক জীবন্ত ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার একটি সামাজিক উদ্যোগ। তাঁদের আশা, জস্বন্ত সিং গিলের জীবনাদর্শ তরুণ সমাজকে দায়িত্ববোধ, মানবসেবা এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
July 19, 2026
Rating:

No comments: