এনজিটি-র নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বরাকর নদীতে অবৈধ বালি উত্তোলনের অভিযোগ, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
নিজস্ব সংবাদদাতা, মাইথন -: জাতীয় সবুজ ট্রাইব্যুনাল (এনজিটি)-র কড়া নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও ঝাড়খণ্ডের মাইথন এলাকার বরাকর নদী থেকে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন ও পরিবহনের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মাইথন আউট পোস্টের অন্তর্গত ডুবুর ডিহি সেতুর নীচে দীর্ঘদিন ধরেই দিনের আলোয় ট্রাক্টরের সাহায্যে নদী থেকে বালি তোলা হচ্ছে এবং তা ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের নজরদারি ও আইন প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু বালি উত্তোলনই নয়, এই কাজে নদীর স্বাভাবিক গতিপথও পরিবর্তন করা হয়েছে। যন্ত্র এবং ট্রাক্টরের সাহায্যে নদীর বুকে ব্যাপক হারে খনন চালানো হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের। পরিবেশ প্রেমীদের মতে, এভাবে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে হস্তক্ষেপ করলে ভবিষ্যতে বরাকর নদীর অস্তিত্ব, জীববৈচিত্র্য এবং আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
গ্রামবাসীদের আরও অভিযোগ, উত্তোলিত বালির কোনও বৈধ চালান বা সরকারি অনুমতির নথি ছাড়াই প্রতিদিন একাধিক ট্রাক্টরে করে বিভিন্ন এলাকায় পরিবহণ করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বাজারে চড়া দামে এই বালি বিক্রি হওয়ায় অবৈধ কারবারের সঙ্গে যুক্ত চক্র বিপুল আর্থিক লাভ করছে।
সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয়, যে এলাকায় এই কথিত অবৈধ বালি উত্তোলন চলছে, সেখান থেকে মাইথন পুলিশ আউট পোস্ট এবং এসডিপিও-র কার্যালয় খুব বেশি দূরে নয়। তবুও দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যকলাপ চলতে থাকায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের বক্তব্য, নিয়মিত নজরদারি এবং কঠোর অভিযান চালানো হলে এই অবৈধ কারবার সহজেই বন্ধ করা সম্ভব।
এলাকাবাসীরা অবিলম্বে গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। কারণ, নদী কেবল প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ যোগ্য এক অমূল্য সম্পদ।
উল্লেখ্য, পরিবেশ রক্ষা এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে এনজিটি বিভিন্ন এলাকায় বালি উত্তোলনের উপর কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে। সেই নির্দেশ অমান্য করে যদি অবৈধভাবে বালি উত্তোলন হয়ে থাকে, তবে তা পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি প্রাকৃতিক সম্পদের অবৈধ শোষণেরও সামিল।
যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের আশা, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে প্রশাসন।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
July 02, 2026
Rating:

No comments: