বর্ষা এলেই বিচ্ছিন্ন দুই জেলা, এবার কি মিলবে স্থায়ী সমাধান? দামোদরের বুকে পাকা সেতুর আশায় হাজারো মানুষ
নিজস্ব সংবাদদাতা, আসানসোল -: প্রতি বছর বর্ষা নামলেই একই ছবি। দামোদর নদীর জল বাড়ে, আর তার সঙ্গে ভেসে যায় নদীর উপর তৈরি অস্থায়ী কাঠের সেতু। মুহূর্তের মধ্যে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে পশ্চিম বর্ধমানের হিরাপুর থানার সামডি এলাকা ও বাঁকুড়া জেলার একাধিক গ্রাম। বছরের পর বছর ধরে এই দুর্ভোগ যেন ওই এলাকার মানুষের নিত্যসঙ্গী।
সম্প্রতি টানা বৃষ্টিতে দামোদরের জলস্তর বাড়তেই সামডি এলাকার কেশকোয়ারি ও ঈশ্বরদা ফেরিঘাটের দুটি অস্থায়ী কাঠের সেতু প্রবল স্রোতে ভেসে যায়। এর ফলে পশ্চিম বর্ধমান ও বাঁকুড়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। স্কুল-কলেজের পড়ুয়া থেকে শুরু করে কৃষক, ব্যবসায়ী, শ্রমিক এবং নিত্যযাত্রী— সকলকেই পড়তে হয় চরম সমস্যায়। কেউ নৌকায় নদী পার হচ্ছেন, আবার কেউ কয়েক কিলোমিটার ঘুরপথে গন্তব্যে পৌঁছাতে বাধ্য হচ্ছেন।
এই দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, দামোদর নদীর উপর একটি স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রস্তাবিত স্থানের সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন (ডিপিআর) তৈরির জন্য রাজ্যের মুখ্যসচিবের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ডিপিআর অনুমোদিত হলেই ওয়ার্ক অর্ডার জারি করে নির্মাণকাজ শুরু হবে।
স্থানীয়দের মতে, এই সেতু নির্মিত হলে শুধু বর্ষার দুর্ভোগই কমবে না, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা এবং জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত খুলে যাবে। বহু বছরের পুরনো দাবি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে বলে আশাবাদী এলাকার মানুষ।
এখন সকলের নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। কারণ, দামোদরের দুই তীরের হাজারো মানুষের কাছে এই সেতু শুধুই একটি নির্মাণ প্রকল্প নয়— এটি তাদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রা, নিরাপদ যোগাযোগ এবং উন্নয়নের এক নতুন স্বপ্ন।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
July 23, 2026
Rating:


No comments: