নিজস্ব সংবাদদাতা, কুলটি (পশ্চিম বর্ধমান) -: পশ্চিম বর্ধমানের কুলটি শিল্পাঞ্চলে মাদকের অবৈধ কারবার রুখতে পুলিশ ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে গেলেও পরিস্থিতি এখনও সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সেই প্রেক্ষাপটে ফের সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। ২০২০ সালের এনডিপিএস (NDPS) মামলায় বিশেষ আদালতের রায়ে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক দম্পতি, উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর আবারও মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে দাবি তদন্তকারীদের। এই ঘটনাকে ঘিরে কুলটি-নিয়ামতপুর সহ গোটা শিল্পাঞ্চলে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম পাপ্পু আনসারি ও তাঁর স্ত্রী সুবেতারা খাতুন। তাঁদের বাড়ি নিয়ামতপুর ফাঁড়ি এলাকার বামুণডিহা মাদ্রাসা পাড়ায়। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এসআই মিলন ভুঁইয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানে রানিসায়ের মোড় সংলগ্ন ইস্কো বাইপাস রোড এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়। পরবর্তীতে তল্লাশিতে প্রায় ২৪ গ্রাম হেরোইন এবং মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা কিছু সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের প্রাথমিক অনুমান, উদ্ধার হওয়া মাদক কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনার অংশ নয়; এর সঙ্গে একটি বৃহত্তর সরবরাহ চক্র জড়িত থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সেই কারণেই ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মাদকের উৎস, সরবরাহের রুট, আর্থিক লেনদেন এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে জোর দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের দাবি, ২০২০ সালেও এই দম্পতির বিরুদ্ধে এনডিপিএস আইনে মামলা দায়ের হয়েছিল এবং পরবর্তীতে আসানসোলের বিশেষ আদালত তাঁদের ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। পরে তাঁরা উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন। এবার একই ধরনের অভিযোগে পুনরায় গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, জামিনে মুক্তির পর কীভাবে তাঁরা ফের তদন্তের আওতায় এলেন। তবে এই মামলাটি বিচারাধীন এবং আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আইনত প্রমাণিত নয়।
শুক্রবার ধৃতদের আসানসোল আদালতে পেশ করে তদন্তের স্বার্থে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীদের আশা, হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মাদক পাচার চক্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার একাংশের মতে, মাদকবিরোধী লড়াইয়ে শুধু খুচরো কারবারিদের গ্রেপ্তার করাই যথেষ্ট নয়; বরং মাদকের উৎস, অর্থের জোগান, পরিবহণ ব্যবস্থা এবং এর সঙ্গে জড়িত গোটা নেটওয়ার্ককে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও মনে করছেন, যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে প্রশাসন, পুলিশ এবং সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ আরও জোরদার হওয়া প্রয়োজন।
কুলটির এই সাম্প্রতিক ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান শুধু নিয়মিত ধরপাকড়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছনোই এখন তদন্তকারী সংস্থার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই গ্রেপ্তার সেই বৃহত্তর তদন্তে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
July 17, 2026
Rating:

No comments: