জামুড়িয়ার স্পঞ্জ আয়রন কারখানায় ভয়াবহ বয়লার বিস্ফোরণ, আহত একাধিক, নিখোঁজ ১০-এর বেশি; শিল্পাঞ্চলে আতঙ্ক
নিজস্ব সংবাদদাতা | জামুড়িয়া, পশ্চিম বর্ধমান -: পশ্চিম বর্ধমানের জামুড়িয়া শিল্পাঞ্চলে ফের শিল্প নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল ভয়াবহ বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা। শুক্রবার সন্ধ্যায় জামুড়িয়ার ইকড়া শিল্পতালুকের শেখপুর এলাকায় অবস্থিত ক্যালেস্টার স্পঞ্জ আয়রন অ্যান্ড প্রাইভেট লিমিটেড কারখানায় আচমকাই বিকট শব্দে বয়লার বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ঘটনায় একাধিক শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন এবং ১০ জনেরও বেশি শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও নিখোঁজের সরকারি সংখ্যা এখনও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।
বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, আশপাশের কয়েকশো মিটার এলাকা পর্যন্ত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, বিস্ফোরণের শব্দে অনেক বাড়িঘর কেঁপে ওঠে এবং কয়েকটি বাড়িতে ফাটলও দেখা দেয়।
শেকপুর গ্রামের বাসিন্দা কাঞ্চন পাল জানান, "হঠাৎ প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আমরা ছুটে যাই। স্থানীয়দের সঙ্গে মিলে আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এখনও অনেকের খোঁজ মেলেনি। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জামুড়িয়া থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং রানীগঞ্জ থেকে দমকলের একটি ইঞ্জিন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজ শ্রমিকদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও প্রশাসন। বয়লার বিস্ফোরণের নেপথ্যে প্রযুক্তিগত ত্রুটি, নাকি নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনও গাফিলতি রয়েছে, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই কারখানার বাইরে ভিড় জমান শ্রমিকদের পরিবার-পরিজন, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীরা। নিখোঁজদের পরিবারের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় গোটা এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিজেপি নেতা দ্বীপ ব্যানার্জি কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলে বলেন,
"শ্রমিকদের নিরাপত্তার ন্যূনতম মান বজায় রাখা হচ্ছে না বলেই বারবার এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। এত বড় বিস্ফোরণের পরও কারখানা কর্তৃপক্ষের কোনও দায়িত্বশীল আধিকারিকের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।"
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলছিল। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে এই ঘটনায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা বা নিখোঁজ শ্রমিকদের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। একইভাবে কারখানা কর্তৃপক্ষও ঘটনার বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
July 17, 2026
Rating:

No comments: