যীশু হেমব্রম, রানীগঞ্জ -: মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল রানীগঞ্জ থানার পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে রানীগঞ্জের একটি শপিং মলে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায় এক ১২ বছরের আদিবাসী নাবালিকা ছাত্রীকে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিরাপদে পরিবারের হাতে তুলে দেয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া নাবালিকার নাম বন্দনা হাঁসদা (১২)। সে রানীগঞ্জ থানার অন্তর্গত জেমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের বেলিয়াবাথান আদিবাসী গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী।
শপিং মলের কর্মীরা দীর্ঘক্ষণ ধরে ওই কিশোরীকে একা ঘুরতে দেখে সন্দেহ করেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে নিজের পরিচয় বা বাড়ির ঠিকানা স্পষ্টভাবে জানাতে না পারায় সঙ্গে সঙ্গে রানীগঞ্জ থানায় খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নাবালিকাকে থানায় নিয়ে আসে এবং ধৈর্য সহকারে তার সঙ্গে কথা বলে পরিচয় জানার চেষ্টা শুরু করে।
প্রথমদিকে আতঙ্কের কারণে কিছুই বলতে না পারলেও, কিছু সময় পরে নিজের নাম ও গ্রামের পরিচয় জানাতে সক্ষম হয় সে। এরপর পুলিশ পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। থানায় পৌঁছে পরিবারের সদস্যরা মেয়েটিকে শনাক্ত করেন এবং সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
শুধু উদ্ধারই নয়, নাবালিকার মানসিক অবস্থা স্বাভাবিক রাখতেও বিশেষ ভূমিকা নেয় রানীগঞ্জ থানার পুলিশ। বাড়ির কথা মনে পড়ে সে কান্নায় ভেঙে পড়লেও থানার মহিলা পুলিশ কর্মীরা তাকে স্নেহ ও যত্নে আগলে রাখেন। তার সঙ্গে গল্প, খেলাধুলা করে এবং খাবারের ব্যবস্থা করেন। এমনকি পুলিশকর্মীরা তাকে পিজ্জাও খাওয়ান। পরে হাসিমুখে ওই ছাত্রী জানায়, পুলিশের দিদি ও কাকুরা তার খুব যত্ন নিয়েছেন এবং তাদের সঙ্গে কাটানো সময় তার ভালো লেগেছে।
অন্যদিকে, কীভাবে ওই নাবালিকা একা রানীগঞ্জ শহরে পৌঁছাল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, মঙ্গলবার সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ মেয়েটি বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। প্রথমে তাঁরা ভেবেছিলেন, সে হয়তো আশপাশেই খেলতে গেছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় বাড়ি না ফেরায় উদ্বেগ বাড়ে এবং খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। পরে রানীগঞ্জ থানার পক্ষ থেকে ফোন পেয়ে তাঁরা জানতে পারেন, তাঁদের মেয়ে নিরাপদে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
নাবালিকার পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি গ্রামের প্রধান সিদ্ধার্থ মার্ডি রানীগঞ্জ থানার পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, "আমরা আমাদের মেয়েকে সুস্থ ও নিরাপদ অবস্থায় ফিরে পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত। রানীগঞ্জ থানার পুলিশ সময়মতো উদ্যোগ না নিলে বড় ধরনের বিপদ ঘটতে পারত। তাদের মানবিকতা ও দায়িত্বশীলতার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।"
এই ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হলো, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি মানবিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও রানীগঞ্জ থানার পুলিশ সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করে চলেছে। সময়োপযোগী তৎপরতা, সংবেদনশীল আচরণ এবং দায়িত্বশীল পদক্ষেপের ফলে একটি পরিবার ফিরে পেল তাদের হারিয়ে যাওয়া কন্যাকে, আর এক নাবালিকা ফিরে পেল নিরাপদ আশ্রয়।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
July 21, 2026
Rating:

No comments: