আসানসোলে অবৈধ স্ক্র্যাপ লোহার কারবারে ডিডির সাঁড়াশি অভিযান, তিন এলাকায় হানা—গ্রেফতার ১, উদ্ধার বিপুল লোহা
নিজস্ব সংবাদদাতা, আসানসোল -: অবৈধ স্ক্র্যাপ লোহার ব্যবসা এবং শিল্পাঞ্চল থেকে চুরি হওয়া লোহার কারবারে লাগাম টানতে বড়সড় অভিযান চালাল আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট (ডিডি)। সোমবার গভীর রাতে শহরের হিরাপুর, কালিপাহাড়ি ও রেলপাড়—এই তিনটি এলাকায় একযোগে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সন্দেহভাজন লোহা উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম অভিযান চালানো হয় হিরাপুর থানার নার্সিংবাঁধ-কলালি এলাকায় অবস্থিত একটি স্ক্র্যাপ গোডাউনে। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে বার্নপুরের ইস্কো স্টিল প্ল্যান্ট থেকে চুরি হওয়া বলে সন্দেহভাজন বিপুল পরিমাণ লোহা উদ্ধার হয়। গোডাউনটি স্থানীয় বাসিন্দা সোনু সাওয়ের বলে জানা যায়। পরে তাঁর বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়ে আরও লোহা উদ্ধার হওয়ায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তের সূত্র ধরে ডিডির একটি দল আসানসোল দক্ষিণ থানার কালিপাহাড়ি এলাকায় আরও একটি স্ক্র্যাপ গোডাউনে অভিযান চালায়। সেখান থেকেও বিপুল পরিমাণ সন্দেহভাজন লোহা উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে, একই সময়ে ডিডির আরেকটি দল আসানসোল উত্তর থানার রেলপাড় এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে সাজ্জাদ ওরফে ‘চিকনা’-র সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ থাকা একটি গোডাউনে তল্লাশি চালিয়ে প্রচুর পরিমাণ লোহা উদ্ধার করা হলেও, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, উদ্ধার হওয়া লোহার একটি বড় অংশ বিভিন্ন শিল্প কারখানা থেকে চুরি করে অবৈধভাবে স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছিল। উদ্ধার হওয়া লোহার উৎস, এর সঙ্গে জড়িত চক্র এবং এই ব্যবসার নেপথ্যে থাকা মূল অভিযুক্তদের চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিশ কমিশনারেটের এক আধিকারিক জানান, শিল্পাঞ্চলে চুরি ও অবৈধ স্ক্র্যাপ ব্যবসার বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
July 21, 2026
Rating:

No comments: