নিজস্ব সংবাদদাতা, আসানসোল -: দামোদর নদ থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন, রাজস্ব ফাঁকি এবং নিয়মবহির্ভূত বালু পরিবহণ রুখতে এবার কড়া অবস্থান নিল প্রশাসন। এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর বিধানসভা এলাকায় দামোদর নদে মাত্র দুটি বালুঘাট সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত। এখন থেকে শুধুমাত্র এই বৈধ ঘাট দু’টি থেকেই প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে নিয়ম মেনে বালু উত্তোলন ও পরিবহণ করা যাবে।
মন্ত্রী জানান, বৈধ ঘাট থেকে বালু বহনের ক্ষেত্রে প্রতিটি গাড়ির জন্য সরকারি চালান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। নির্ধারিত রয়্যালটি ও সরকারি কর জমা না দিয়ে কোনওভাবেই বালু পরিবহণ করা যাবে না। পুরো প্রক্রিয়ার উপর প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে নজরদারি চালাবে, যাতে কোনও ধরনের অনিয়ম বা রাজস্ব ফাঁকি না হয়।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও অতিরিক্ত বোঝাই গাড়ি চলাচল নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগ আসছিল। পরিবেশের ক্ষতি এবং সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই এবার কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কোনও গাড়ি নির্ধারিত ক্ষমতার বেশি বালু বহন করছে বলে ধরা পড়লে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অগ্নিমিত্রা পাল আরও জানান, জাতীয় পরিবেশ আদালত (এনজিটি)-এর নিয়ম অনুযায়ী নদীর মাঝখান থেকে পোকলেন, সেমি-মেকানিক্যাল বা অন্য কোনও ভারী যন্ত্র ব্যবহার করে বালু তোলার অনুমতি নেই। বর্তমানে শুধুমাত্র মানবশ্রমের মাধ্যমে বালু উত্তোলনই বৈধ। যদিও সেমি-মেকানিক্যাল পদ্ধতি নিয়ে কিছু প্রযুক্তিগত বিষয় এখনও স্পষ্ট নয়। তাই বিষয়টি রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় এবং বাঁকুড়ার জেলাশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। সরকারের চূড়ান্ত নির্দেশ পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বালু পরিবহণে ব্যবহৃত ট্র্যাক্টরগুলির ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম চালু করা হচ্ছে। বিধায়ক জানান, সমস্ত ট্র্যাক্টর মালিককে প্রথমে সরকারি পোর্টালে লাইসেন্স নবীকরণ করতে হবে। তারপর বৈধ বালুঘাট থেকে সরকারি চালান সংগ্রহ করেই ট্র্যাক্টর চালানোর অনুমতি মিলবে। এতে একদিকে যেমন পরিবহণ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে থাকবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষও নিয়ম মেনে সহজে বালু সংগ্রহ করতে পারবেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, অবৈধ বালু পরিবহণ বা খননের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কোনওরকম রেয়াত করা হবে না। আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে বাজারে বালুর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, সাধারণ মানুষের সমস্যা বিবেচনা করে বিষয়টি ইতিমধ্যেই রাজ্যের শিল্পমন্ত্রীর নজরে আনা হয়েছে। বালুর দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের লক্ষ্য একটাই—দামোদরে অবৈধ বালু খাদান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা, সরকারি রাজস্ব সুরক্ষিত রাখা এবং পরিবেশ সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করা। সেই লক্ষ্যেই আগামী দিনে আরও নজরদারি বাড়ানো হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
July 10, 2026
Rating:

No comments: