নিজস্ব সংবাদদাতা, সালানপুর /পশ্চিম বর্ধমান -: পশ্চিম বর্ধমান জেলার সালানপুরে রবিবার ডিভিসি (দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন)-র উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ডিভিসির পরিত্যক্ত কোয়ার্টার ভাঙার কাজ চলাকালীন আশপাশের কয়েকটি বেসরকারি বাড়ি ও দোকানেও নোটিস ছাড়াই উচ্ছেদের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই অভিযোগকে ঘিরেই এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু সময়ের জন্য সড়ক অবরোধের জেরে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে ডিভিসি কর্তৃপক্ষ প্রায় ১১০টি কোয়ার্টার ভাঙার কাজ শুরু করে। সেই সময় এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, পাশের ব্যক্তিগত বাড়ি ও দোকানও ভেঙে ফেলার কথা বলা হয়, যদিও সে বিষয়ে কোনও লিখিত নোটিস তাঁদের হাতে পৌঁছায়নি। এই অভিযোগের জেরেই ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ ও অবরোধে সামিল হন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় সিপিএম নেত্রী শিপ্রা মুখার্জি অভিযোগ করেন, "কোনও পূর্ব নোটিস ছাড়াই মানুষের বাড়ি ভেঙে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অন্যায়।" তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট জমি ডিভিসির নয়; বরং বন দফতর এবং সরকারের ভেস্টেড জমির অন্তর্গত। তাঁর আরও বক্তব্য, ওই এলাকায় বহু পরিবার প্রায় পাঁচ দশক ধরে বসবাস করছেন এবং সেখান থেকেই জীবিকা নির্বাহ করছেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে। পরে ডিভিসি কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আলোচনার ব্যবস্থা করা হয়। আলোচনার পর ডিভিসি কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দেয় যে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় নোটিস জারি ছাড়া কোনও বেসরকারি বাড়ি বা দোকানের বিরুদ্ধে আপাতত উচ্ছেদমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।
এই আশ্বাসের পর বিক্ষোভকারীরা অবরোধ তুলে নেন এবং ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে স্থানীয়দের একাংশ জানিয়েছেন, বিষয়টির উপর তাঁরা নজর রাখবেন এবং ভবিষ্যতে যে কোনও পদক্ষেপ আইন মেনেই করা হোক, সেই দাবি জানাবেন।
উল্লেখ্য, জমির মালিকানা, দীর্ঘদিনের বসবাসের অধিকার এবং উচ্ছেদের আগে যথাযথ নোটিস প্রদান—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই এলাকায় প্রশ্ন উঠেছে। যদিও জমির মালিকানা ও অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে ডিভিসি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে ঘটনাকে ঘিরে বিতর্ক পুরোপুরি কাটেনি।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
July 19, 2026
Rating:

No comments: