নিজস্ব সংবাদদাতা, আসানসোল -: আসানসোলকে যানজট, অব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সমস্যার জটিলতা থেকে মুক্ত করে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত শহর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে মঙ্গলবার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিল এডিডিএ। এডিডিএ-র সিইও তথা আসানসোল পুরনিগমের প্রশাসক অদিতি চৌধুরীর উদ্যোগে এডিডিএ ভবনের কনফারেন্স হলে শহরের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় এক গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় বৈঠক।
শহরের যানবাহন ব্যবস্থা, পরিকাঠামো উন্নয়ন, পার্কিং সংকট, হকার পুনর্বাসন, সৌন্দর্যায়ন ও নাগরিক পরিষেবা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয় বৈঠকে। ব্যবসায়ী মহল শহরের উন্নয়নের স্বার্থে একাধিক বাস্তবসম্মত ও দূরদর্শী প্রস্তাব প্রশাসনের সামনে তুলে ধরে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন FOSBECI-র সভাপতি সচিন রায়, সাউথ বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি ভি. কে. ঢল, সাধারণ সম্পাদক জগদীশ বাগড়ি, আসানসোল চেম্বার অফ কমার্সের সম্পাদক শম্ভুনাথ ঝা, নরেশ আগরওয়াল, আসানসোল মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি হিরেন ব্যাস, অমিত ছাবড়া-সহ শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
FOSBECI-র সভাপতি সচিন রায় বলেন, জি টি রোডে প্রতিদিনের তীব্র যানজট কমাতে বিকল্প ফ্লাইওভার নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি এস. বি. গোরাই রোডের ওপর চাপ কমাতে আসানসোল জেলা হাসপাতালের পিছন দিয়ে রেললাইনের পাশ ঘেঁষে চার লেনের একটি নতুন রাস্তা তৈরির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। বহু আগে এই প্রকল্পের পরিকল্পনা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এছাড়াও শহরের দীর্ঘদিনের পার্কিং সমস্যার সমাধানে মাল্টি-লেভেল স্পাইরাল পার্কিং প্লাজা নির্মাণেরও দাবি জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, আসানসোল চেম্বার অফ কমার্সের সম্পাদক শম্ভুনাথ ঝা শহরের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে আট দফা সুপারিশ পেশ করেন। তাঁর প্রস্তাবগুলির মধ্যে রয়েছে—ফুটপাতের হকারদের নির্দিষ্ট স্থানে পুনর্বাসন, স্যার সৈয়দ আহমদ পার্ককে অটো-টোটো স্ট্যান্ডে রূপান্তর, অবৈধ দখলমুক্ত জমির সৌন্দর্যায়ন, জুবিলি মোড় ও কালিপাহাড়ি বাসস্ট্যান্ড দ্রুত চালু করা, ফলের পাইকারি বাজার বাইপাস এলাকায় স্থানান্তর, সি.এস.আর প্রকল্পের মাধ্যমে ছোট পার্কগুলির উন্নয়ন, বকেয়া সম্পত্তি কর আদায়ে ট্যাক্স অ্যামনেস্টি প্রকল্প চালু এবং শহরজুড়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জল সংরক্ষণে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ।
শম্ভুনাথ ঝা বলেন, "আসানসোল শুধু ব্যবসার শহর নয়, এটি আমাদের বাড়ি। তাই সমালোচনা নয়, প্রশাসনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে শহরকে আরও উন্নত, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল করে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।"
ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব মনোযোগ দিয়ে শোনার পর এডিডিএ এর সিইও তথা পুর প্রশাসক অদিতি চৌধুরী জানান, শহরের উন্নয়নে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাবগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি প্রশাসন ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করতে এখন থেকে প্রতি মাসে নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
এই বৈঠককে ঘিরে শহরের ব্যবসায়ী মহলে আশাবাদের সঞ্চার হয়েছে। তাঁদের মতে, প্রস্তাবগুলি বাস্তবায়িত হলে আসানসোলে যানজট, পার্কিং সংকট, অব্যবস্থাপনা ও নাগরিক দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে এবং শিল্পনগরী আসানসোল নতুন রূপে আত্মপ্রকাশ করবে।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
July 14, 2026
Rating:

No comments: