বিক্ষোভকারী মহিলাদের অভিযোগ, তিরাট বালুঘাট থেকে প্রতিদিন অসংখ্য ওভারলোড বালুবাহী ট্রাক যাতায়াত করছে। সেই ভারী যানবাহনের চাপেই এলাকার রাস্তাঘাট কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা, বিশেষ করে মহিলা, শিশু, প্রবীণ ও স্কুলপড়ুয়াদের নিত্যদিন চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। একাধিকবার প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেই দাবি তাঁদের।
শুধু রাস্তা নয়, বিক্ষোভকারীদের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে দামোদর নদ থেকেও লাগাতার বালু উত্তোলনের বিষয়টি। স্থানীয়দের দাবি, বর্ষাকাল চলাকালীনও দামোদর নদীর বুক চিরে নির্বিচারে ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। অথচ এই কর্মকাণ্ড রোখার ক্ষেত্রে প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী। তাঁদের অভিযোগ, দিনের পর দিন এই কার্যকলাপ চললেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির নজরদারি কার্যত চোখে পড়ছে না।
স্থানীয়দের আরও দাবি, অতিরিক্ত বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক পরিবেশের ওপর প্রভাব পড়ছে এবং জলস্তর ক্রমশ নিচে নেমে যাওয়ায় আশপাশের গ্রামগুলিতে পানীয় জলের সংকটও তীব্র হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজের জন্যও পর্যাপ্ত জল জোগাড় করতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বহু পরিবারকে।
এই ঘটনার পর এলাকায় একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—তিরাট এলাকার মহিলারা যেভাবে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদের ঝড় তুললেন, এবার কি সত্যিই প্রশাসনের হুঁশ ফিরবে? দীর্ঘদিন ধরে ওঠা অভিযোগ, বেহাল রাস্তা, ওভারলোড ট্রাকের দৌরাত্ম্য এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কি এবার দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হবে, নাকি আগের মতোই অভিযোগের ফাইল ধুলো জমবে? এই প্রশ্নই এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।
বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে ওভারলোড বালুবাহী ট্রাকের চলাচল বন্ধ, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার দ্রুত সংস্কার, পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তাঁদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তাঁরা।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পুলিশ আধিকারিকরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের দাবিগুলি প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে সংবাদ লেখা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলছিল এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা সামনে আসেনি।
এলাকাবাসীর বক্তব্য, সমস্যা আজকের নয়; দীর্ঘদিন ধরে একই অভিযোগ উঠছে। তাই এবার শুধু আশ্বাস নয়, বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চান তাঁরা। তিরাটের এই বিক্ষোভ প্রশাসনের কাছে এক স্পষ্ট বার্তা—স্থানীয় মানুষের ধৈর্যের সীমা ফুরিয়ে এসেছে।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
July 09, 2026
Rating:


No comments: