নিজস্ব সংবাদদাতা, আসানসোল -: ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার মাঝে স্কুল চত্বর। আর সেই স্কুলের পরিকাঠামোর মধ্যেই গোপনে মজুত করা হচ্ছিল বিপুল পরিমাণ রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার! আসানসোল উত্তর বিধানসভার রেলপার বাবুয়াতলাও এলাকায় এমনই এক গোপন গ্যাস গোডাউনের হদিশ মিলতেই চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। খবর পেয়ে যৌথ অভিযান চালিয়ে গোডাউনটি সিল করে দেয় এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ, পুলিশ ও দমকল দপ্তর।
অভিযানে গোডাউন থেকে ২০০-রও বেশি গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে ৬১টি সিলিন্ডারে গ্যাস ভর্তি ছিল। বাকি সিলিন্ডারগুলি খালি। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার মধ্যে এভাবে বিপুল পরিমাণ দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল বলে মনে করছে প্রশাসন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় বেআইনিভাবে সিলিন্ডার মজুত করে কালোবাজারি চালানো হচ্ছিল। অভিযোগ, সরকারি দামের তুলনায় বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যেই এইভাবে সিলিন্ডার মজুত করা হয়েছিল। যদিও এই কারবারের পিছনে কারা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
জেলা জুড়ে অবৈধ মজুত, ভেজাল এবং কালোবাজারির বিরুদ্ধে প্রশাসনের নজরদারি ও অভিযান চলছে। সেই ধারাবাহিকতার মধ্যেই এই অভিযান বলে জানা গিয়েছে। প্রশাসনের প্রাথমিক তদন্তে গোডাউনটির বৈধ কাগজপত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযানের পর গোটা গোডাউনটি সিল করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, এই বেআইনি মজুতের সঙ্গে কারা জড়িত এবং কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে এমন কারবার চলছিল, তা খতিয়ে দেখছে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ ও আসানসোল উত্তর থানার পুলিশ।
স্কুল চত্বরের মতো জনবহুল ও সংবেদনশীল জায়গায় বিপুল পরিমাণ গ্যাস সিলিন্ডার মজুতের ঘটনা সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের বক্তব্য, সময়মতো প্রশাসনের নজরে না এলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারত। দ্রুত অভিযান চালিয়ে গোডাউনটি সিল করে দেওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
September 05, 2026
Rating:

No comments: