নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা -: বছরের পর বছর পড়ুয়া নেই। কোথাও পাঁচ বছর, কোথাও আবার টানা দুই দশক ধরে কোনও ছাত্রছাত্রীর পা পড়েনি স্কুলে। অথচ পড়ে রয়েছে সরকারি জমি, স্কুলবাড়ি, খেলার মাঠ। এমনই ৯৩৩টি ছাত্রশূন্য স্কুলের বিরুদ্ধে এবার পদক্ষেপ শুরু করল রাজ্য শিক্ষা দফতর।
শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, তালিকায় প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক—বিভিন্ন স্তরের স্কুল রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পড়ুয়াহীন হয়ে পড়ে থাকা ওই স্কুলগুলির সম্পত্তি কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ কমিটি গঠন করেছে সরকার।
কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলির জমি ও ভবনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হবে। প্রয়োজনে অব্যবহৃত স্কুলবাড়ি ও জমি অন্য সরকারি দফতরের কাজে ব্যবহারের বিষয়েও ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে।
তবে এখনই স্কুলগুলিকে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই বলেই জানিয়েছেন স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। বিশেষ করে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মডেলে এই স্কুলগুলির সম্পত্তি দেওয়ার সম্ভাবনা আপাতত নাকচ করা হয়েছে।
তবে সব স্কুল বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হচ্ছে না। শিক্ষা দফতরের বক্তব্য, প্রত্যন্ত এলাকায় এমন কোনও স্কুল থাকলে, যার আশপাশে বিকল্প শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই, সেগুলি বন্ধ করা হবে না। ছাত্রছাত্রীদের যাতায়াত ও স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থার বিষয়টি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে, ইউডিআইএসই প্লাস ২০২৫-২৬-এর পরিসংখ্যানে রাজ্যে শূন্য নামাঙ্কনের স্কুলের সংখ্যা ৪ হাজার ১৩৩ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে শিক্ষা দফতরের চিহ্নিত ৯৩৩টি স্কুল এবং ওই বৃহত্তর পরিসংখ্যানের মধ্যে পার্থক্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই সংখ্যা ও তালিকার মধ্যে কীভাবে সামঞ্জস্য রয়েছে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে কৌতূহল।
কমিটির রিপোর্ট সামনে আসার পরই ছাত্রশূন্য স্কুলগুলির জমি, ভবন এবং ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিয়ে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ স্পষ্ট হবে।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
September 22, 2026
Rating:

No comments: