রানীগঞ্জ -: খনি শহর রানীগঞ্জের মুকুটে ফের সাফল্যের নতুন পালক। চন্দ্রযান-২, চন্দ্রযান-৩ এবং আদিত্য-এল১-এর পর এবার ইসরোর নতুন মহাকাশ অভিযানের সঙ্গেও জড়িয়ে গেল রানীগঞ্জের ভূমিপুত্র সানি মিত্রের নাম। দেশের মহাকাশ গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে ফের বাংলার মুখ উজ্জ্বল করলেন রানীগঞ্জের এই তরুণ বিজ্ঞানী।
ইসরোর জিএসএলভি-এফ১৭ রকেটের মাধ্যমে মহাকাশে পাড়ি দিয়েছে আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট, অর্থাৎ পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ ইওএস-০৫। অত্যাধুনিক এই উপগ্রহের মাধ্যমে আবহাওয়া, কৃষি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং সীমান্ত নজরদারির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে পরিষেবা পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
এই মহাকাশ অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ রকেটের ইঞ্জিন। আর সেই ইঞ্জিন তৈরির মূল দায়িত্বে থাকা বিজ্ঞানীদের অন্যতম রানীগঞ্জের সিএলএম লেনের বাসিন্দা সানি মিত্র। তাঁর কথায়, এই অভিযানে এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে মহাকাশযানের জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব হবে। বিশেষ প্রযুক্তির ব্যবহারে লিকুইড অ্যাপোজি মোটরকে অতিরিক্ত বার ফায়ারিং করার প্রয়োজন পড়বে না। দেশীয় প্রযুক্তিতে এই সাফল্যকে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রানীগঞ্জের ছেলে সানি মিত্র গত আট বছর ধরে ইসরোর বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করছেন। ২০১৯ সালে চন্দ্রযান-২ অভিযানের মাধ্যমে ইসরোর সঙ্গে তাঁর পথচলা শুরু। এরপর ২০২৩ সালের ঐতিহাসিক চন্দ্রযান-৩ অভিযানেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ভারতের প্রথম সৌর অভিযান আদিত্য-এল১-এর সাফল্যের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন রানীগঞ্জের এই বিজ্ঞানী। এবার তাঁর সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হল ইওএস-০৫-এর নাম।
একসময়ের খনি শহরের সরু গলি থেকে মহাকাশ গবেষণার আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছে যাওয়া সানি মিত্রের এই যাত্রা নিঃসন্দেহে রানীগঞ্জবাসীর কাছে গর্বের। তাঁর সাফল্য শুধু একটি পরিবারের নয়, গোটা রানীগঞ্জ তথা বাংলার তরুণ প্রজন্মের কাছেও অনুপ্রেরণা।
স্বপ্নের কোনও সীমানা নেই—রানীগঞ্জের মাটিতে দাঁড়িয়ে মহাকাশ ছোঁয়ার সানি মিত্রের সাফল্য যেন সেই কথাই আরও একবার মনে করিয়ে দিল।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
September 05, 2026
Rating:


No comments: