সংগঠনের অভিযোগ, কয়লা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদকে ঘিরে বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মকাণ্ডের জেরে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে জমি হারানোর আশঙ্কা বাড়ছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে যে জমি ও বসতভিটায় মানুষ বসবাস করছেন, সেই জমির অধিকার নিয়ে তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে সংগঠন।
তিরাট ও কুলটির সম্মেলন থেকে অবৈধ উচ্ছেদ বন্ধ, ভূমিহীনদের অবিলম্বে পাট্টা প্রদান এবং জল, জঙ্গল ও জমির অধিকার সুরক্ষিত করার দাবি ওঠে। বক্তাদের বক্তব্য, উন্নয়নের প্রয়োজন অস্বীকার করা হচ্ছে না, কিন্তু সেই উন্নয়নের মূল্য যেন আদিবাসী ও প্রান্তিক মানুষকে নিজেদের ভিটেমাটি হারিয়ে দিতে না হয়।
সম্মেলনে দেশের উচ্ছেদ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সংগঠনের প্রতিনিধিদের দাবি, উচ্ছেদের শিকার মানুষের একটি বড় অংশ আদিবাসী সম্প্রদায়ের। তাঁদের অভিযোগ, প্রাকৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ এলাকায় বসবাসকারী মানুষই বারবার জমি ও বসতভিটা সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছেন।
এদিন ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া তথা এসআইআর নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাঁদের বক্তব্য, কোনও প্রকৃত নাগরিকের নাম যেন নথিপত্রের জটিলতা বা প্রক্রিয়াগত কারণে ভোটার তালিকা থেকে বাদ না যায়। বিশেষ করে প্রান্তিক এলাকার মানুষের ক্ষেত্রে প্রশাসনকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের দাবি জানানো হয়।
পাশাপাশি ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র ইস্যু করার অভিযোগও ওঠে সম্মেলনে। সংগঠনের দাবি, প্রকৃত আদিবাসীদের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত রাখতে এই ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
তিরাটের সম্মেলনে বিনয় হাঁসদার নেতৃত্বে নতুন কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়। সঞ্জয় হেমব্রম ও দীনেশ মুর্মুর নামও নতুন কমিটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। অন্যদিকে কুলটিতে লক্ষীরাম হেমব্রম ও দুগাই টুডুর নেতৃত্বে সংগঠনের কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়।
পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী অধিকার মঞ্চের জেলা কমিটির সম্পাদক বিনয় হাঁসদা বলেন, “আদিবাসীদের নিজেদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের কোনও প্রচেষ্টাই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলিকে লক্ষ্য করে জমি থেকে মানুষকে সরিয়ে দেওয়ার কোনও প্রক্রিয়া থাকলে তা বন্ধ করতে হবে। এর বিরুদ্ধে আগামী দিনে সংগঠনের পক্ষ থেকে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
তিনি আরও বলেন, ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্রের অভিযোগও গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। আদিবাসীদের জমি, বসতভিটা ও অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকার দাবি জানান তিনি।
জোড়া সম্মেলনের পর এখন নজর প্রশাসনের দিকে। কয়লাঞ্চলে উন্নয়নের পাশাপাশি সেখানে বসবাসকারী মানুষের জমি, পাট্টা ও নাগরিক অধিকার কতটা সুরক্ষিত থাকবে—সেই প্রশ্নই সামনে এনে আন্দোলনের বার্তা দিয়েছে আদিবাসী অধিকার মঞ্চ। অভিযোগগুলির প্রশাসনিক যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট মানুষের বক্তব্য শোনার পর সরকার কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে কয়লাঞ্চল।
উচ্ছেদ রুখতে কয়লাঞ্চলে আদিবাসীদের হুঙ্কার
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
September 27, 2026
Rating:
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
September 27, 2026
Rating:


No comments: