নিজস্ব সংবাদদাতা, রানীগঞ্জ -: দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা, যান চলাচল, অগ্নিনিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সমন্বয় আরও জোরদার করতে রানীগঞ্জে অনুষ্ঠিত হল দুর্গাপুজো সমন্বয় বৈঠক। শনিবার রানীগঞ্জ থানার উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠকে প্রশাসন ও পুজো কমিটিগুলির মধ্যে সমন্বয়ের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
‘দুর্গাপুজো সমন্বয় বৈঠক ২০২৬’-এ উপস্থিত ছিলেন ডিসি সেন্ট্রাল ধ্রুব দাস, এসিপি বিমান কুমার মির্ধা, রানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক সুবীর কর্মকার, রানীগঞ্জ থানার অন্তর্গত চারটি ফাঁড়ির আধিকারিক, মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, দমকল বিভাগের আধিকারিক, রানীগঞ্জ ব্লকের বিডিও, ট্রাফিক বিভাগের আধিকারিক-সহ জেলা প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন রানীগঞ্জ থানা এলাকার বিভিন্ন দুর্গাপুজো কমিটির প্রতিনিধিরাও।
বৈঠকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুজো কমিটিগুলিকে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন নির্দেশিকা সম্পর্কে অবহিত করা হয়। প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়, সরকারি সমস্ত নিয়ম ও নির্দেশিকা মেনেই পুজোর আয়োজন করতে হবে। একইসঙ্গে নির্বিঘ্নে উৎসব সম্পন্ন করতে পুজো কমিটিগুলিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়। প্রশাসনের সঙ্গে পুজো কমিটিগুলিকেও পূর্ণ সহযোগিতা করার আবেদন জানানো হয়।
পুজোর সময় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায়। পুলিশের পক্ষ থেকে পুজো কমিটির প্রতিনিধিদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী ডিজে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এর পাশাপাশি পুজো সংক্রান্ত অন্যান্য সরকারি বিধিনিষেধও যথাযথভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বৈঠক প্রসঙ্গে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, এর আগে আসানসোল দক্ষিণ থানার অন্তর্গত শহরাঞ্চলের পুজো কমিটিগুলিকে নিয়ে সমন্বয় বৈঠক হয়েছে। এদিন রানীগঞ্জ ও সংলগ্ন গ্রামীণ এলাকার পুজো কমিটিগুলিকে নিয়ে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, উৎসবের দিনগুলিতে কোনও মৃত্যুর ঘটনা তো নয়ই, এমনকী ছোটখাটো দুর্ঘটনাও যাতে না ঘটে এবং সাধারণ মানুষ যাতে কোনওরকম সমস্যার মুখে না পড়েন, সেটাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।
বৈঠকে পুজোর দিনগুলিতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, প্যান্ডেল নির্মাণে ব্যবহৃত কাপড়ের ধরন, অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে উৎসব পরিচালনার ক্ষেত্রে পুজো কমিটিগুলির ভূমিকার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, সামনে গণেশপুজো। বিভিন্ন জায়গায় উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ইতিমধ্যেই উৎসবের আবহ তৈরি হচ্ছে। গণেশপুজো থেকেই কার্যত শুরু হয়ে যায় দুর্গাপুজোর পরিবেশ। এরপর বিশ্বকর্মাপুজো, তারপর বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। সারা বছর মানুষ এই উৎসবের অপেক্ষায় থাকেন। এরপর ভাইফোঁটা, কালীপুজো, বড়দিন—এভাবেই এগিয়ে চলবে উৎসবের মরশুম।
উৎসবের আবহে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার আবেদন জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ফেসবুক বা অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে কোনও ধরনের সাম্প্রদায়িক মন্তব্য বা উস্কানিমূলক বক্তব্য লেখা থেকে সকলকে বিরত থাকতে হবে। দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দুর্গাপুজো উদযাপনের জন্য সকলের কাছে আবেদন জানান তিনি।
উৎসবের পাশাপাশি শহরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়েও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চান অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর বক্তব্য, রাস্তায় খাবার খাওয়া কিংবা রেস্তোরাঁয় যাওয়ায় কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু খাবার খাওয়ার পর সেই খাবারের প্যাকেট বা আবর্জনা যেখানে-সেখানে রাস্তায় ফেলে দেওয়া কোনওভাবেই কাম্য নয়। সাফাইকর্মীরা সারাদিন শহর পরিষ্কার করবেন আর সাধারণ মানুষ যত্রতত্র আবর্জনা ফেলবেন—এই অভ্যাস বদলানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি জানান।
রানীগঞ্জ শহরে যত্রতত্র আবর্জনা ফেললে জরিমানার ব্যবস্থা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী জানান, মানুষের এই অভ্যাস দীর্ঘদিনের। প্রায় ৫০ বছরের পুরনো এই অভ্যাস একদিনে বদলানো সম্ভব নয়। তাই জরিমানার পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করার উপরেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, জরিমানা করে অর্থ আদায় করা প্রশাসনের মূল উদ্দেশ্য নয়; বরং নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করাই এই পদক্ষেপের প্রধান লক্ষ্য।
গাড়ির কাচ নামিয়ে চিপসের প্যাকেট, ঝালমুড়ির প্যাকেট রাস্তায় ফেলা কিংবা প্রকাশ্যে রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার মতো অভ্যাসও বন্ধ করার আবেদন জানান তিনি। ধীরে ধীরে নাগরিকদের সচেতনতার মাধ্যমে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।
প্রশাসন, পুলিশ, দমকল, ট্রাফিক বিভাগ এবং পুজো কমিটিগুলির পারস্পরিক সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে দুর্গাপুজোকে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল করে তোলার বার্তাই উঠে আসে এদিনের বৈঠক থেকে।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
September 13, 2026
Rating:




No comments: