পাণ্ডবেশ্বর, নিজস্ব সংবাদদাতা -: মোবাইলের পথনির্দেশিকার ওপর ভরসা করেই গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু সেই পথনির্দেশিকাই শেষ পর্যন্ত ডেকে আনল বিপদ। কয়লা উত্তোলনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা এবং ধসপ্রবণ ইসিএলের অধিগৃহীত এলাকার একটি পরিত্যক্ত রাস্তায় গাড়ি নিয়ে ঢুকে দুর্ঘটনার কবলে পড়লেন এক কেবল লাইন অপারেটর। গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তিনি। ঘটনাকে ঘিরে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
ঘটনাটি ঘটেছে পাণ্ডবেশ্বর থানার হরিপুরের পুরনো ভাটমুড়া এলাকায়। আহত কেবল অপারেটরের নাম প্রসূন ব্যানার্জি। তাঁর বাড়ি কাঁকসা থানার ১১ মাইল এলাকার ডাঙ্গালপাড়া গ্রামে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কর্মসূত্রে বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় রাতে ফিরে আসার কথা জানিয়েছিলেন প্রসূন। কিন্তু রাত বাড়লেও তিনি বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। রাতভর তল্লাশি চালিয়েও তাঁর কোনও সন্ধান মেলেনি।
এরই মধ্যে দুর্ঘটনায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় প্রসূনের স্মৃতিশক্তি সাময়িকভাবে লোপ পায় বলে পরিবার সূত্রে দাবি। ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হলেও তিনি একেক সময় একেক জায়গার নাম বলছিলেন। ফলে তাঁর সঠিক অবস্থান চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
শেষ পর্যন্ত মুঠোফোনের সংযোগস্থলের অবস্থানই দেখাল পথ। ভোরের দিকে পরিবারের সদস্যরা তাঁর মুঠোফোনের সংযোগস্থলের অবস্থান অনুসরণ করতে শুরু করেন। তাতেই পাণ্ডবেশ্বর থানার হরিপুরের একটি পরিত্যক্ত এলাকার অবস্থান সামনে আসে। এরপর পুলিশ প্রশাসন ও ইসিএল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় শুরু হয় উদ্ধার অভিযান।
তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, কয়লা উত্তোলনের কারণে যে রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, সেই ভাঙাচোরা ও ধসপ্রবণ রাস্তাতেই রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন প্রসূন। প্রাথমিকভাবে অনুমান, মুঠোফোনের পথনির্দেশিকা অনুসরণ করতে গিয়েই তিনি গাড়ি নিয়ে ওই বিপজ্জনক রাস্তায় ঢুকে পড়েন এবং দুর্ঘটনার কবলে পড়েন।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
ঘটনাকে ঘিরে এখন সামনে আসছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বন্ধ ও বিপজ্জনক ওই রাস্তা কি এখনও মুঠোফোনের পথনির্দেশিকায় সচল রাস্তা হিসেবে দেখানো হচ্ছে? যদি তাই হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে বিষয়টি কেন এল না? পাশাপাশি, ইসিএলের অধিগৃহীত ও ধসপ্রবণ এলাকায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক করার জন্য পর্যাপ্ত ব্যারিকেড বা সতর্কীকরণ বোর্ড ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। প্রসূন সুস্থ হয়ে উঠলে তাঁর বক্তব্য থেকেই ঘটনার বিস্তারিত কারণ জানা যেতে পারে। একই সঙ্গে পরিত্যক্ত ও বিপজ্জনক রাস্তায় পথনির্দেশিকার ভূমিকা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাটি আরও একবার মনে করিয়ে দিল—অপরিচিত এলাকায় শুধুমাত্র মুঠোফোনের পথনির্দেশিকার ওপর নির্ভর করে এগোনোর আগে রাস্তার বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়াও জরুরি।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
September 19, 2026
Rating:

No comments: