রানীগঞ্জ -: স্বচ্ছতার বার্তা যতই জোরালো হোক, রানীগঞ্জ শহরের বেশ কিছু এলাকার বাস্তব ছবিতে তার ছাপ নেই। রাস্তার ধারে উপচে পড়া ডাস্টবিন, দিনের পর দিন পড়ে থাকা পচা আবর্জনা এবং তা থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। এরই মধ্যে আবর্জনার স্তূপ ঘিরে অস্বাভাবিকভাবে মাছির বাড়বাড়ন্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চিকিৎসক মহল। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনও।
রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল শহরের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন। রাস্তাঘাট নোংরা করা হলে জরিমানা এবং নিয়মিত সাফাইয়ের উপর জোর দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় সেই নির্দেশের বাস্তবায়ন কতটা হয়েছে, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরসভার ডাস্টবিনগুলি আবর্জনায় উপচে পড়লেও নিয়মিত সাফাই হয় না। ফলে আবর্জনা ছড়িয়ে পড়ছে রাস্তার উপর। পচা খাবার ও বর্জ্য থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি বাড়ছে মাছির উপদ্রব। বারবার জানিয়েও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।
অন্যদিকে, আবর্জনা রিসাইক্লিংয়ের ব্যবস্থাও কার্যত অচল হয়ে পড়ে রয়েছে বলে অভিযোগ। আগে যে রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট ছিল, সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর নতুন করে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি বলেও দাবি স্থানীয়দের।
এই পরিস্থিতিতেই মাছির বাড়বাড়ন্তকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকেরা। আইএমএ-র রানীগঞ্জ শাখার সভাপতি ডা. অনির্বাণ ঘোষের বক্তব্য, অস্বাভাবিকভাবে মাছির সংখ্যা বৃদ্ধি জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তাঁর মতে, মাছি পচা খাবার ও বর্জ্যে বসে পরে মানুষের খাদ্যে বসলে জীবাণু সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হয়। এর ফলে ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েডের মতো জল ও খাদ্যবাহিত রোগ এবং বিভিন্ন ভাইরাল সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
রানীগঞ্জ আবার পশ্চিম বর্ধমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা-কেন্দ্র। রামবাগান-সহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন বহু মানুষ চিকিৎসার জন্য আসেন। ফলে জনবহুল শহরে দীর্ঘদিন আবর্জনা জমে থাকলে তা শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়, বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য-সংক্রান্ত সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা চিকিৎসকদের।
পরিবেশবিদদের একাংশের মতে, খনি অধ্যুষিত এলাকায় দূষণের সমস্যা এমনিতেই রয়েছে। তার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বর্জ্য থেকে মাটি ও ভূগর্ভস্থ জলের দূষণের আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।
ডা. অনির্বাণ ঘোষ বলেন, শহর সৌন্দর্যায়নে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল যে উদ্যোগ নিচ্ছেন, তা প্রশংসনীয়। তবে রানীগঞ্জের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো মৌলিক সমস্যার দিকেও দ্রুত নজর দেওয়া প্রয়োজন।
ফলে প্রশ্ন উঠছে—মন্ত্রীর কড়া বার্তার পরও যদি আবর্জনার স্তূপ সরানো না যায়, তবে রানীগঞ্জের এই স্বাস্থ্য-আশঙ্কার অবসান হবে কবে?
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
September 13, 2026
Rating:

No comments: