শুক্রবার কাজে যোগ দিতে এসে গেটের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকরা। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে স্লোগান ও বিক্ষোভ। আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন ভারতীয় জনতা মজদুর সেলের পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতি শিবদাস বাউরি।
বিক্ষোভ চলাকালীন কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সরব হন শিবদাস বাউরি। তাঁর অভিযোগ, ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে শ্রমিকদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। শ্রমিকরা ঘাম ঝরিয়ে উৎপাদন বাড়ালেও তাঁদের ন্যায্য পাওনা দেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।
এদিন নাম না করে হেমন্ত সিংকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে কীভাবে লুটপাট হয়েছে তা তাঁদের জানা রয়েছে এবং বিষয়টি দিল্লি পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে বলেও হুঁশিয়ারি দেন শিবদাস বাউরি।
শ্রমিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁদের ১৪ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ন্যূনতম মজুরি প্রদান, পর্যাপ্ত সেফটি কিটের ব্যবস্থা, মাসে বেতন-সহ চার দিন ছুটি, আট ঘণ্টার বেশি ডিউটি না করানো এবং প্রতি মাসের সাত তারিখের মধ্যে বেতন প্রদান। পাশাপাশি অন্যান্য স্পঞ্জ আয়রন কারখানার সমহারে বেতন বৃদ্ধি-সহ মোট ১৪ দফা দাবি রয়েছে।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেজন্য ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় জামুড়িয়া থানার কেন্দা ফাঁড়ির পুলিশ।
পরে কারখানা কর্তৃপক্ষের ডাকে শ্রমিকদের একটি প্রতিনিধিদল ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে বৈঠক করে। সেখানে তাঁদের দাবিদাওয়া নিয়ে একটি স্মারকলিপিও জমা দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলি উচ্চতর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করার আশ্বাস দেয়।
কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পর এদিনের বিক্ষোভ সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হলেও শ্রমিকদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন থামবে না। আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
September 04, 2026
Rating:


No comments: