মাটির তলায় আগুন, চোখের সামনে ধস! ধান্ডারডিহিতে আতঙ্ক, স্থায়ী পুনর্বাসনের দাবিতে ইসিএলকে ঘিরে বিক্ষোভ
রানীগঞ্জ -: মাটির নিচে দীর্ঘদিন ধরে জ্বলছে আগুন। তার সঙ্গে মিথেন গ্যাসের আশঙ্কা। এরই মধ্যে আচমকা বিকট শব্দে কেঁপে উঠল চারপাশ। চোখের সামনে গ্রামের একটি অংশের মাটি ধসে তৈরি হল গভীর গহ্বর। ফাটল দিয়ে বেরিয়ে আসতে শুরু করল ধোঁয়া ও গ্যাস। মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল গোটা এলাকায়। ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়লেন ধান্ডারডিহির বাসিন্দারা।
ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছয় ইসিএল কর্তৃপক্ষ। বিশাল পেলোডার, বুলডোজার-সহ একাধিক যন্ত্র নিয়ে ধসের জায়গা মেরামতির উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু সেই উদ্যোগেই ক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে গ্রামবাসীদের মধ্যে। তাঁদের বক্তব্য, উপর থেকে মাটি বা বালি ফেলে ফাটল ঢেকে দিলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। মাটির নিচে থাকা বিপদ থেকেই যাবে। যেকোনও সময় আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ইসিএল আধিকারিকদের ঘিরে ধরে বিক্ষোভে সামিল হন এলাকার বাসিন্দারা। শুরু হয় তীব্র বাদানুবাদ। গ্রামবাসীদের দাবি, বছরের পর বছর ধরে তাঁরা খনি এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে বসবাস করছেন। এবার তাঁরা চান স্থায়ী সমাধান। প্রয়োজন হলে গ্রাম অন্যত্র সরিয়ে নিরাপদ পুনর্বাসনের ব্যবস্থার দাবিও ওঠে। বিক্ষোভের জেরে শেষ পর্যন্ত ধস মেরামতির কাজ থমকে যায়। ধসের প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকে বিশাল মেশিনগুলি।
এলাকার বাসিন্দা ঘনশ্যাম ঘোষ জানান, প্রায় এক বছর ধরে এলাকার পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় এই ধরনের সমস্যা দেখা যাচ্ছে। তাঁর দাবি, “মিথেন গ্যাসের জন্য এই সমস্যা হচ্ছে। যেকোনও সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। আমরা এর উপযুক্ত ব্যবস্থা চাই।”
ঘনশ্যাম ঘোষের আরও দাবি, বিষয়টি নিয়ে আগেও প্রশাসনকে জানানো হয়েছে এবং লিখিত অভিযোগও করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইসিএলের তরফেও কয়েক বছর আগে এলাকাটিকে আশঙ্কাজনক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, তারপরও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।
গ্রামবাসীদের বক্তব্য, ধসের জায়গায় মাটি ফেলে সাময়িকভাবে ফাটল বন্ধ করা হলেও মাটির নিচের বিপদ দূর হবে না। আজ ফাটল বোজানো হলেও আগামী দিনে ফের ধস নামলে তার দায় কে নেবে—এই প্রশ্নই তুলছেন তাঁরা। গ্রামের মধ্যবর্তী এলাকায় এই সমস্যার কারণে একটি পরিবারকে চরম সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।
তাই তাঁদের দাবি, শুধু ধস মেরামতি নয়, গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি বিপজ্জনক এলাকা থেকে গ্রামবাসীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।
ধান্ডারডিহির ঘটনায় ফের সামনে এল খনি এলাকার মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্ন। মাটির নিচে আগুন, গ্যাসের আশঙ্কা এবং ধসের আতঙ্কের মধ্যে আর কতদিন মানুষকে বসবাস করতে হবে—এখন সেই প্রশ্নের উত্তর চাইছেন স্থানীয়রা। সাময়িকভাবে ফাটল ঢেকে দেওয়া নয়, এবার চাই বিপদের স্থায়ী সমাধান—এই দাবিতেই সরব ধান্ডারডিহি।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
September 09, 2026
Rating:

No comments: