সালানপুর, পশ্চিম বর্ধমান -: ভোটের ফল প্রকাশের পর হিংসা, মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগে সালানপুরে গ্রেফতার হলেন কল্যা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান শ্রীকান্ত পাত্র। মঙ্গলবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে চয়নপুরে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে সালানপুর থানার রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ির পুলিশ। বুধবার তাঁকে আসানসোল আদালতে পেশ করা হলে তদন্তের স্বার্থে সাত দিনের পুলিশি হেফাজত চায় পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাদল পাত্র নামে এক ব্যক্তির দায়ের করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই এই গ্রেফতার। অভিযোগে মারধর ও ভাঙচুর-সহ একাধিক বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর এলাকায় ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনায় শ্রীকান্ত পাত্রের নাম উঠে আসে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
অভিযোগের পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। পরে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে খবর পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অভিযোগে উল্লিখিত ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি এবং তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে।
শ্রীকান্ত পাত্র কল্যা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এবং স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। তাঁর গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সালানপুরের রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর রাজনৈতিক সহযোগী ও সমর্থকদের প্রতিক্রিয়ার দিকেও নজর রয়েছে।
এদিকে, গ্রেফতারের পর তাঁর আর্থিক ও রাজনৈতিক উত্থান নিয়েও স্থানীয় স্তরে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, রাজনীতিতে প্রভাব বাড়ার আগে তাঁর পরিবারের আর্থিক অবস্থা দুর্বল ছিল। তাঁর বাবা পকোড়ার দোকান চালাতেন এবং শ্রীকান্ত পাত্র নিজেও ঠেলা চালাতেন বলে দাবি তাঁদের।
পরবর্তীকালে তাঁর সম্পত্তি বৃদ্ধি, কয়লা, বালি ও পাথর সংক্রান্ত কথিত বেআইনি কারবার, জমি এবং ঝাড়খণ্ডে কথিত অংশীদারিত্ব নিয়েও নানা অভিযোগ স্থানীয় স্তরে ওঠে। জমির বিনিময়ে কোলিয়ারিতে চাকরি সংক্রান্ত প্রভাব খাটানোর অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি কয়েকজনের।
তবে এই অভিযোগগুলির কোনও স্বাধীন বা সরকারি নিশ্চিতকরণ এখনও মেলেনি। ফলে এগুলিকে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে দেখা যাবে না। একইভাবে, রাজনৈতিক মদত সংক্রান্ত যে দাবিগুলি উঠছে, তারও স্বাধীনভাবে কোনও নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে পুলিশের তদন্তের মূল বিষয় দায়ের হওয়া অভিযোগ এবং তার সঙ্গে শ্রীকান্ত পাত্রের ভূমিকা। আদালত পুলিশি হেফাজতের আবেদন মঞ্জুর করে কি না এবং পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে কী তথ্য সামনে আসে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
September 16, 2026
Rating:

No comments: