বীরভূমের সাঁইথিয়া থানার বড়সাড়ারা গ্রামের বাপি দাস, দয়াময় দাস, বাসুদেব দাস ও সঞ্জয় দাস—এই চার ঢাকিকে নিয়েই গড়ে উঠেছে তাঁদের দল। বাপি দাস ভাদু গান পরিবেশন করেন। দয়াময় দাস মহিলার সাজে ভাদুর মূর্তি কোলে নিয়ে নাচের মাধ্যমে পরিবেশনা করেন। আর ঢাক ও কাঁসরের সুরে সেই পরিবেশনাকে পূর্ণতা দেন বাসুদেব ও সঞ্জয়।
শুক্রবার ভাদু পুজোর শেষ দিনে পশ্চিম বর্ধমানের উখড়া-খান্দরা গ্রামে পৌঁছয় তাঁদের দল। ঢাকের তালে ভাদু গান ও নাচ দেখতে সেখানে ভিড় জমান স্থানীয় বাসিন্দারা। মোবাইল ফোনে সেই লোকশিল্পের মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করতেও দেখা যায় অনেককে। একদিকে আধুনিক ডিজিটাল সময়, অন্যদিকে বাংলার মাটির পুরনো সুর—দুইয়ের মেলবন্ধনে তৈরি হয় অন্যরকম পরিবেশ।
ভাদু ও টুসু রাঢ় বাংলার লোকসংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ভাদ্র মাসজুড়ে চলে ভাদু পুজো, আর পৌষ সংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে পালিত হয় টুসু উৎসব। লোককথা অনুযায়ী, পঞ্চকোটের রাজকন্যা ভদ্রাবতী ও টুসুমণির স্মৃতিকে ঘিরেই এই দুই লোকউৎসবের সূচনা।
গ্রামের কুমারী মেয়েরা মাটির মূর্তি তৈরি করে ফুল ও আলপনায় সাজিয়ে গান গেয়ে ভাদু ও টুসুকে বরণ করে নেন। ভাদু গানে উঠে আসে প্রেম, বিরহ ও সমাজজীবনের নানা কথা। অন্যদিকে টুসু গানে ফুটে ওঠে ফসল, ঘর-সংসার ও মানুষের নানা আশা-আকাঙ্ক্ষা। একসময় ভাদ্র থেকে পৌষ—এই সময়টুকু গ্রামবাংলার বহু ঘরে ঘরে শোনা যেত ভাদু-টুসুর সুর।
তবে আধুনিকতার প্রবল প্রভাব ও সময়ের পরিবর্তনে সেই ঐতিহ্য অনেকটাই ম্লান হয়ে এসেছে। হারিয়ে যেতে বসা সেই লোকসংস্কৃতিকে নিজেদের মতো করে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এই চার শিল্পী।
বাপি দাসের কথায়, আগে গ্রামগঞ্জে ভাদু গানের ব্যাপক প্রচলন ছিল। বর্তমানে সেই চর্চা অনেকটাই কমে এসেছে। ঐতিহ্যটিকে যতদিন সম্ভব ধরে রাখার চেষ্টা করছেন তাঁরা।
রোজগারের তাগিদে শুরু হলেও তাঁদের কাছে ভাদু গান এখন শুধুই পেশা নয়, বরং বাংলার লোকঐতিহ্যকে ধরে রাখার এক দায়বদ্ধতা। তাঁদের এই উদ্যোগে অন্তত কিছুক্ষণের জন্য হলেও গ্রামবাংলার মানুষের কাছে ফিরে আসছে মাটির সেই চেনা সুর।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
September 18, 2026
Rating:

No comments: