আসানসোল, প্রতিবেদক -: মুখ্যমন্ত্রী থেকে প্রধানমন্ত্রী—নরেন্দ্র মোদির ২৫ বছরের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক যাত্রাকে সামনে রেখে দেশজুড়ে মাসব্যাপী ‘সেবা-সঙ্কল্প অভিযান’-এর ডাক দিয়েছে বিজেপি। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এই কর্মসূচি। তবে পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোর কথা মাথায় রেখে অধিকাংশ কর্মসূচি ৯ অক্টোবরের মধ্যেই শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই উপলক্ষে শিল্পাঞ্চল পশ্চিম বর্ধমান জেলাতেও মোট ১২টি জনমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
সম্প্রতি আসানসোলে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে অভিযানের বিস্তারিত কর্মসূচি ও রূপরেখা তুলে ধরেন বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য তথা ‘সেবা-সঙ্কল্প অভিযান’-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা বিদ্যাসাগর চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানান, ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির প্রশাসনিক যাত্রার সূচনা হয়েছিল। প্রায় ১৩ বছর মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পর ২০১৪ সালে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। সেই দীর্ঘ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক যাত্রাকে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতেই এই বিশেষ উদ্যোগ।
অভিযানের সূচনা হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন ১৭ সেপ্টেম্বর। ওই দিন সন্ধ্যা ৭টায় দেশজুড়ে ‘আশীর্বাদের দীপ’ কর্মসূচির মাধ্যমে ঘরে ঘরে প্রদীপ জ্বালানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে প্রায় দেড় কোটি প্রদীপ জ্বালানোর লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে দাবি।
অভিযানে পড়ুয়াদেরও যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘স্বপ্নের ভারত’ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে ছবি আঁকা ও বক্তৃতা প্রতিযোগিতা হবে। ২০৪৭ সালে স্বাধীনতার শতবর্ষে ভারত ও বাংলাকে তারা কেমন দেখতে চায়, সেই ভাবনাই পড়ুয়াদের সৃজনশীলতার মাধ্যমে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে, ‘সেবা মহাযজ্ঞ’-এর আওতায় রক্তদান শিবির, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ-সহ প্রায় ২৫ ধরনের জনসেবামূলক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে ‘সেবা সেতু’ কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন ব্লক অফিসে বিশেষ শিবির করার পরিকল্পনাও রয়েছে। সেখানে সাধারণ মানুষের সমস্যা ও অভিযোগ শুনে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
এছাড়াও ‘সেবা রং’, ‘সেবা ভারত ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’, ‘গাথা’ এবং ‘আমার গল্প’-এর মতো একাধিক কর্মসূচি থাকছে। সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ভিডিওর মাধ্যমে তুলে ধরারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অভিযানের সমাপ্তি পর্ব হিসেবে ৯ অক্টোবর কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে বড় অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি বিহার ও ঝাড়খণ্ডের যুবক-যুবতী এবং উদীয়মান স্টার্টআপগুলির উদ্ভাবনী কাজ ও প্রকল্প প্রদর্শিত হবে। সফল উদ্ভাবক ও যুবকদের সম্মানিত করারও পরিকল্পনা রয়েছে।
বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, এই এক মাসের কর্মসূচিতে পশ্চিম বর্ধমান জেলার প্রতিটি মানুষকে কোনও না কোনওভাবে যুক্ত করার চেষ্টা করা হবে। ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় জেলার প্রতিটি পরিবারকে বাড়ির সামনে প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে আশীর্বাদ জানানোর আহ্বান জানান তিনি। তাঁর দাবি, ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’-এর পাশাপাশি ‘বিকশিত বাংলা’ গড়ার লক্ষ্যেও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এগোতে হবে।
সাংবাদিক বৈঠকে পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য, অপূর্ব হাজরা, সংপা রায়, রানীগঞ্জের বিধায়ক পার্থ ঘোষ, মদন চৌবে-সহ দলের একাধিক নেতা, জনপ্রতিনিধি ও কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
September 12, 2026
Rating:

No comments: