Social Tribal News

Social Tribal News delivers inclusive news coverage across Bengali, Santhali, Hindi, and English as a News Media Network.

Social Tribal News

Social Tribal News operates as a mainstream news platform presenting regional and international news in Bengali, Santhali, Hindi, and English, with recognition from the Ministry of Youth Affairs & Sports and MSME registration.

অন্নপূর্ণার টাকা কই? আবেদন ঝুলে চার মাস, আসানসোলে মহিলাদের বিক্ষোভ


 আসানসোল, ২১ সেপ্টেম্বর -: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা না পাওয়ার অভিযোগে সোমবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেন আসানসোলের শতাধিক মহিলা। আসানসোল মহকুমাশাসকের দফতরের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। পরে আদালত সড়কেও বিক্ষোভকারীদের ভিড় দেখা যায়। মহিলাদের অভিযোগ, আবেদন করার পর প্রায় চার মাস ধরে তাঁদের শুধু বলা হচ্ছে, আবেদনটি এখনও প্রক্রিয়াধীন। অথচ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকছে না প্রকল্পের টাকা।

বিক্ষোভকারী মহিলাদের দাবি, নির্বাচনের সময় অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেই আশায় বহু মহিলা আবেদন করলেও তাঁদের একাংশ এখনও প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।

মহিলাদের বক্তব্য, আবেদন নিয়ে খোঁজ করতে গেলে আধিকারিকদের তরফে কখনও বলা হচ্ছে আবেদন প্রক্রিয়াধীন, আবার কখনও বলা হচ্ছে যাচাই চলছে। এভাবেই দিনের পর দিন কেটে গেলেও কবে টাকা মিলবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও উত্তর পাচ্ছেন না তাঁরা। তাঁদের প্রশ্ন, আবেদনে কোনও ভুল বা নথির ঘাটতি থাকলে তা স্পষ্ট করে জানানো হোক। প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়া কিংবা ভুল সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হোক। কিন্তু শুধু আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়ে তাঁদের আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে?

বিক্ষোভকারীদের আরও অভিযোগ, প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রকৃত দরিদ্র ও প্রয়োজনীয় মহিলারাই সমস্যায় পড়ছেন। অথচ আর্থিকভাবে তুলনামূলক স্বচ্ছল কিছু পরিবারের মহিলারা সুবিধা পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। যদিও এই অভিযোগের কোনও সরকারি নিশ্চিতকরণ মেলেনি।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক মহিলার দাবি, তাঁর স্বামী দিল্লিতে কুলির কাজ করেন এবং তাঁদের পরিবার ভাড়া বাড়িতে থাকে। পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতিও ভালো নয়। তা সত্ত্বেও এখনও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাননি তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই আর্থিক সহায়তা তাঁদের মতো পরিবারের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে মহিলাদের একাংশ প্রশ্ন তোলেন, স্থানীয় সমস্যার সমাধানের জন্য তাঁদের কলকাতায় যেতে বলা হচ্ছে কেন? তাঁদের বক্তব্য, তাঁরা আসানসোলের বাসিন্দা এবং এখানেই ভোট দেন। তাহলে নিজেদের আবেদন ও অভিযোগের বিষয়ে জানতে কলকাতায় যাওয়ার প্রয়োজন কেন হবে? তাঁদের দাবি, স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমেই আবেদনের বর্তমান অবস্থা যাচাই করে দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে হবে।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলাদের প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। আধার-সংযুক্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে ওই টাকা পাঠানো হয়। স্থায়ী সরকারি চাকরি, নিয়মিত সরকারি বেতন বা পেনশন পাওয়া এবং আয়কর প্রদানকারী মহিলারা এই সুবিধার আওতায় পড়েন না।

ইতিমধ্যেই সেপ্টেম্বর মাসে বহু উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকার কিস্তি পৌঁছেছে বলে জানা গিয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে আধার ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সংযোগ, সরাসরি অর্থ স্থানান্তর অথবা আবেদন যাচাই সংক্রান্ত সমস্যার কারণে টাকা আটকে থাকতে পারে। ফলে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে আবেদনের বর্তমান অবস্থার পাশাপাশি ব্যাংক সংক্রান্ত তথ্যও যাচাই করা জরুরি।

এদিনের বিক্ষোভে মহিলারা আগের সময়ে পাওয়া ১ হাজার ৫০০ টাকার আর্থিক সহায়তার প্রসঙ্গও তোলেন। তাঁদের দাবি, আগে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা পাওয়া গেলেও নতুন প্রকল্পে আবেদন করার পর দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

শতাধিক মহিলা একসঙ্গে মহকুমাশাসকের দফতরের সামনে জড়ো হওয়ায় কিছু সময়ের জন্য এলাকায় বিক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়। আদালত সড়কেও নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা। বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি, যাঁরা প্রকল্পের যোগ্য, তাঁদের আবেদন দ্রুত যাচাই করে অর্থ প্রদান করতে হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা আবেদনের বর্তমান অবস্থাও স্পষ্ট করে জানাতে হবে।

এখন দেখার, মহিলাদের এই বিক্ষোভের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের অভিযোগ খতিয়ে দেখে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা আবেদনগুলির নিষ্পত্তিতে কী পদক্ষেপ করা হয়।

অন্নপূর্ণার টাকা কই? আবেদন ঝুলে চার মাস, আসানসোলে মহিলাদের বিক্ষোভ অন্নপূর্ণার টাকা কই? আবেদন ঝুলে চার মাস, আসানসোলে মহিলাদের বিক্ষোভ Reviewed by Social Tribal News Journalist on September 21, 2026 Rating: 5

No comments:

Home Ads

Powered by Blogger.