রানীগঞ্জ -: সময়ের স্রোত বদলেছে। বদলেছে শহরের চেহারা। কিন্তু রানীগঞ্জ হাই স্কুলের প্রাঙ্গণে আজও যেন আটকে রয়েছে ব্রিটিশ আমলের এক টুকরো ইতিহাস। ১৮৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তারও আগের এক অধ্যায়—ব্রিটিশদের জেল। পুরনো জেলের গেট থেকে ফাঁসির মঞ্চ, আজও সেই অতীতের নীরব সাক্ষী। অথচ এত ঐতিহাসিক গুরুত্বের পরেও এখনও হেরিটেজ স্বীকৃতি অধরা। এবার সেই স্বীকৃতির দাবিকেই সামনে এনে স্কুলটির ইতিহাস সংরক্ষণে উদ্যোগী হলেন রানীগঞ্জের বিধায়ক পার্থ ঘোষ।
ঐতিহাসিক এই স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে এদিন প্রাচীন স্থাপনাগুলি ঘুরে দেখেন বিধায়ক। সঙ্গে ছিলেন রানীগঞ্জের স্কুল পরিদর্শক সুশোভন কনার, প্রধান শিক্ষক প্রীতম চ্যাটার্জী-সহ শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও পড়ুয়ারা। পুরনো জেলের গেট এবং ফাঁসির মঞ্চ পরিদর্শন করে স্কুলের ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেন তিনি।
জানা যায়, স্কুল প্রতিষ্ঠার আগে ওই এলাকায় ব্রিটিশদের জেল ছিল। সেই সময়ের স্মৃতিবাহী স্থাপনাগুলি এখনও স্কুল চত্বরে টিকে রয়েছে। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি গোটা এলাকাটির ঐতিহাসিক গুরুত্বও নতুন করে সামনে এসেছে। বিধায়কের মতে, এই নিদর্শনগুলি শুধু একটি স্কুলের সম্পদ নয়, রানীগঞ্জের অতীত ইতিহাসেরও গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
স্কুলটিকে হেরিটেজ স্বীকৃতির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত চিঠি দেওয়ার পরামর্শ দেন পার্থ ঘোষ। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলি সংরক্ষণ, স্কুলের পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার বিষয়েও স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।
তবে রানীগঞ্জ হাই স্কুলের পরিচয় শুধু তার প্রাচীন ইতিহাসে সীমাবদ্ধ নয়। এই স্কুলের প্রাক্তনীদের সাফল্যের তালিকাও যথেষ্ট দীর্ঘ। এখান থেকে পড়াশোনা করে বহু ছাত্রছাত্রী ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার-সহ বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা সেই প্রাক্তনীদের একত্রিত করে স্কুলে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজনের প্রস্তাবও দেন বিধায়ক।
তাঁর বক্তব্য, সফল প্রাক্তনীদের স্কুলে এনে বর্তমান পড়ুয়াদের সামনে তাঁদের সংগ্রাম ও সাফল্যের কাহিনি তুলে ধরা গেলে তা নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার হয়ে উঠবে। ইতিহাসের সঙ্গে ভবিষ্যতের সেতুবন্ধনও তৈরি হবে তাতে।
এদিন পড়ুয়াদের খাবারের ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখেন বিধায়ক। খাবারের মান ও পরিচ্ছন্নতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। স্কুলের দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনা ও পড়ুয়াদের সুযোগ-সুবিধা নিয়েও শিক্ষক ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন।
ব্রিটিশ আমলের জেল, পুরনো গেট, ফাঁসির মঞ্চ এবং ১৮৮৮ থেকে পথচলা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—রানীগঞ্জ হাই স্কুল যেন একই প্রাঙ্গণে বহন করে চলেছে অতীত ও বর্তমানের গল্প। সেই ইতিহাসকে এবার সরকারি স্বীকৃতি ও সংরক্ষণের আওতায় আনার দাবি উঠতেই নতুন করে আলোচনায় এল রানীগঞ্জের এই প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। হেরিটেজ স্বীকৃতি মিললে শুধু স্কুল নয়, রানীগঞ্জের ইতিহাসেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নতুন মর্যাদা পাবে।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
September 14, 2026
Rating:

No comments: