রনীগঞ্জ -: শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের অক্ষর শেখান না, একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের পথও দেখান। কখনও অভিভাবকের মতো শাসন, কখনও বন্ধুর মতো পরামর্শ—শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর এই সম্পর্কই শিক্ষার ভিতকে আরও মজবুত করে। সেই সম্পর্ক ও শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দিন শিক্ষক দিবস। আর সেই বিশেষ দিনেই সিয়াড়সোল গ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের হাতে এল শিক্ষার নতুন সুযোগ।
শিক্ষক দিবস উপলক্ষে ভারত বিকাশ পরিষদের উদ্যোগে সিয়াড়সোল এলাকার সিয়াড়সোল গ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি কম্পিউটার প্রদান করা হয়। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সম্মানিত করা হয়। কম্পিউটার পাওয়ার আনন্দ যেমন ছিল পড়ুয়াদের চোখেমুখে, তেমনই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সম্মানিত করার মুহূর্তেও তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারত বিকাশ পরিষদের সভাপতি প্রদীপ বাজোড়িয়া, অরুণময় কুণ্ডু, দুর্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রদীপ সিং রাঠৌর, বিজেপি নেত্রী শতাব্দী চট্টোপাধ্যায়, রনীগঞ্জ সার্কেলের স্কুল পরিদর্শক সুশোভন কোণার, সিয়াড়সোল গ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নির্মাল্য সেনগুপ্ত, ড. বি.বি. মুখোপাধ্যায়, উৎসব মুখোপাধ্যায়-সহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও পড়ুয়ারা।
শিক্ষক দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একজন শিক্ষকের কাজ শুধু শ্রেণিকক্ষের চার দেওয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একজন শিক্ষকই অনেক সময় একজন পড়ুয়ার স্বপ্নকে চিনতে পারেন, তাকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দেন এবং ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার পথ দেখান। তাই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্ক কেবল পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—এই সম্পর্কের মধ্যে রয়েছে বিশ্বাস, শ্রদ্ধা, শাসন ও ভালোবাসার বন্ধন।
ভারত বিকাশ পরিষদের সভাপতি প্রদীপ কুমার বাজোরিয়া বলেন, মানুষের মধ্যে জাতীয়তাবোধ আরও শক্তিশালী করাই সংস্থার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। পাশাপাশি শিক্ষা ক্ষেত্রে পড়ুয়া ও শিক্ষকদের পাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। সম্প্রতি একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের সংবর্ধনা দেওয়ার পাশাপাশি পাঁচজন শিক্ষককে সম্মানিত করা হয়েছে। এবার শিক্ষক দিবসে সিয়াড়সোল গ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কম্পিউটার প্রদান এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সম্মান জানানো হল।
তিনি জানান, শিক্ষা ক্ষেত্রে এই ধরনের উদ্যোগ আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে। ইতিমধ্যেই ভারত বিকাশ পরিষদের পক্ষ থেকে তিনটি কম্পিউটার প্রদান করা হয়েছে। আগামী দিনে আরও চারটি কম্পিউটার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
রনীগঞ্জ সার্কেলের স্কুল পরিদর্শক সুশোভন কোণার বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও পরিকাঠামোর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় হলেও সিয়াড়সোল গ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের জন্য একাধিক ভালো সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। মিড-ডে মিলের পাশাপাশি স্বচ্ছ পানীয় জলের ব্যবস্থাও রয়েছে। এবার কম্পিউটার যুক্ত হওয়ায় পড়ুয়াদের শিক্ষার পরিধি আরও বাড়বে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি একরকম নয়। তাই কোনও সীমাবদ্ধতাকে বাধা হিসেবে না দেখে ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। শিক্ষক, প্রশাসন এবং সমাজের সহযোগিতায় পড়ুয়াদের সামনে নতুন নতুন শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নির্মাল্য সেনগুপ্ত বলেন, বিদ্যালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার জন্য ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সরকারি বিদ্যালয়ে ভালো পড়াশোনা হয় না—এই ধারণা ঠিক নয়। যথাযথ মনোযোগ, পরিকল্পনা ও আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকলে সরকারি বিদ্যালয়েও পড়ুয়াদের উন্নত শিক্ষা দেওয়া সম্ভব।
তিনি ভারত বিকাশ পরিষদ ও প্রশাসনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁর কথায়, এই সহযোগিতার ফলে বিদ্যালয়ে কম্পিউটারের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাসামগ্রী যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। প্রতি বছরই বিদ্যালয়ে শিক্ষক দিবস পালন করা হয়। তবে এবারের শিক্ষক দিবসে কম্পিউটার পাওয়া বিদ্যালয় পরিবারের কাছে নিঃসন্দেহে একটি বিশেষ প্রাপ্তি।
শিক্ষক দিবসের এই অনুষ্ঠানে তাই শুধু একটি কম্পিউটার পাওয়ার আনন্দ নয়, বরং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কের সেই পুরনো বন্ধনও যেন নতুন করে সামনে এল। একজন শিক্ষক যেখানে স্বপ্ন দেখানোর কাজ করেন, সেখানে একটি নতুন কম্পিউটার সেই স্বপ্নকে বাস্তবের সঙ্গে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যম হয়ে উঠল।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
September 05, 2026
Rating:

No comments: