পরীক্ষার হলে বুকে ব্যথা, কালাচের ছোবল বুঝতেই পারেনি! বড়জোড়া হাসপাতালের তৎপরতায় প্রাণে বাঁচল উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী
বড়জোড়া, বাঁকুড়া -: রাতে ঘুমের মধ্যেই বিষধর সাপের ছোবল। অথচ টেরই পায়নি সে। সকালে হাতে কামড়ের চিহ্ন ও সামান্য অস্বস্তি থাকলেও উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষা দিতে চলে যায়। পরীক্ষা চলাকালীন আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়ে বড়জোড়া হাইস্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী বর্ষা দাস। প্রথমে বোঝাই যায়নি অসুস্থতার আসল কারণ। পরে পরিবারের কাছ থেকে সাপের কামড়ের তথ্য পাওয়ার পর চিকিৎসকদের সন্দেহ দানা বাঁধে। দ্রুত চিকিৎসা শুরু করে বড়জোড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। চিকিৎসকদের তৎপরতায় আপাতত বিপদমুক্ত ওই ছাত্রী।
বৃহস্পতিবার বড়জোড়ার ঘুটগড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে উচ্চমাধ্যমিকের তৃতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা দিতে গিয়েই অসুস্থ বোধ করে বর্ষা। দ্রুত তাকে বড়জোড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে ভর্তির পরেও কিছু সময় পর্যন্ত অসুস্থতার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হয়নি। এদিকে বিকেলের দিকে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় তাকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
বর্ষার বাবা হারাধন দাস জানান, রাতে ঘুমের সময় তাঁর মেয়ের হাতে কিছু একটা কামড়েছিল। পরে সেই জায়গা লাল হয়ে ফুলে যায়। তবে সেটি সাপের কামড় বলে তাঁরা বুঝতে পারেননি। পরিবারের কাছ থেকে এই তথ্য পাওয়ার পরই চিকিৎসকদের সন্দেহ হয় বিষধর সাপের দংশনের বিষক্রিয়ার দিকে।
হাসপাতাল সুপার বিনীত রঞ্জন বলেন, প্রথম দিকে উপসর্গ দেখে রোগ নির্ণয় করা কঠিন হচ্ছিল। পরে পরিবারের কাছ থেকে কামড়ের বিষয়টি জানার পর বিষধর সাপের দংশনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হয়। দ্রুত মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে চিকিৎসা শুরু করা হয়।
চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, বর্ষাকে কালাচ সাপে দংশন করেছিল। কালাচের কামড় অনেক সময় তীব্র ব্যথা সৃষ্টি না করায় দংশনের বিষয়টি সহজে বোঝা যায় না। কিন্তু বিষক্রিয়া গুরুতর আকার নিতে পারে। দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে চিকিৎসা শুরু হওয়ায় বর্ষার পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।
খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছন বড়জোড়ার উপপ্রধান গোবিন্দ ঘোষ, বিধায়ক প্রতিনিধি সোমনাথ কর এবং স্কুলের শিক্ষকরা। বড়জোড়া হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক বামদেব মুখোপাধ্যায় ও সহশিক্ষক সায়ক গোস্বামী হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের তৎপরতার প্রশংসা করেন।
ঘটনাকে ঘিরে ফের সামনে এসেছে বর্ষাকালে গ্রামাঞ্চলে সাপের দংশনের ঝুঁকি। বিশেষ করে রাতে ঘুমের সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। সাপের কামড়ের সামান্যতম সন্দেহ থাকলেও ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের উপর নির্ভর না করে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে পৌঁছনোর পরামর্শই দিচ্ছেন তাঁরা।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
September 25, 2026
Rating:

No comments: