৩০ কিলোমিটার পদযাত্রা ঘিরে উত্তেজনা, পুলিশের বাধার অভিযোগ আদিবাসী সংগঠনের; ছয় দফা দাবিতে জেলাশাসকের দপ্তরে ডেপুটেশন
যীশু হেমব্রম, পশ্চিম বর্ধমান: ছয় দফা দাবিকে সামনে রেখে মঙ্গলবার পশ্চিম বর্ধমান জেলার জামুড়িয়া থানার অন্তর্গত কেন্দা এলাকা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পদযাত্রা করে পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসকের দপ্তরে ডেপুটেশন দেওয়ার কর্মসূচি নেয় দিসম আদিবাসী গাঁওতা সংগঠন। সকাল প্রায় ছয়টা নাগাদ পদযাত্রা শুরু হলেও কুনুস্তড়িয়া মোড় সংলগ্ন এলাকায় পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে বচসার পরিস্থিতি তৈরি হয়। কিছু সময়ের জন্য সেখানে উত্তেজনাও ছড়ায়।
সংগঠনের কর্মী সঞ্জয় হেমব্রমের অভিযোগ, রানীগঞ্জ থানার অন্তর্গত পাঞ্জাবি মোড় হয়ে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে জেলাশাসকের দপ্তরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে পদযাত্রা আটকে দেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর আরও দাবি, রানীগঞ্জ থেকে আসানসোল পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করে পদযাত্রা আটকানোর চেষ্টা করা হয়।
অন্যদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি বন্ধ করার উদ্দেশ্যে নয়, বরং নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই পদযাত্রার পরিবর্তে বিকল্প পরিবহণের মাধ্যমে জেলাশাসকের দপ্তরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি সেন্ট্রাল ধ্রুব দাস জানান, পদযাত্রার নির্ধারিত রুটের বড় অংশ ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর দিয়ে। ওই রাস্তায় প্রচুর যানবাহন চলাচল করে। ফলে দীর্ঘ পদযাত্রার সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। সেই কারণেই আন্দোলনকারীদের বিকল্প পরিবহণ ব্যবহারের জন্য বলা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন মোড় সংলগ্ন এলাকা থেকে আন্দোলনকারীদের মিনিবাসে করে জেলাশাসকের দপ্তরে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় বলে জানা যায়। কর্মসূচিকে ঘিরে রানীগঞ্জের পাঞ্জাবি মোড় থেকে জেলাশাসকের দপ্তর পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
দিসম আদিবাসী গাঁওতা সংগঠনের কর্মী সৈলমন মান্ডির দাবি, তাঁদের ছয় দফা দাবিকে কেন্দ্র করে গত ২৩ মার্চ থেকে দুর্গাপুরে ধরনা কর্মসূচি চলছে। সংগঠনের দাবি অনুযায়ী, সেই কর্মসূচি ইতিমধ্যেই ১৬৩ দিন অতিক্রম করেছে। দীর্ঘদিন আন্দোলন চলার পরও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় এদিন ৩০ কিলোমিটার পদযাত্রার মাধ্যমে জেলাশাসকের কাছে ডেপুটেশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, শান্তিপূর্ণভাবেই ডেপুটেশন দেওয়াই ছিল তাঁদের উদ্দেশ্য।
সাঁওতালি অভিনেতা ও সমাজকর্মী বুবুন মান্ডিও এদিনের কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন। তাঁর দাবি, আদিবাসী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির বিষয়ে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—জামুড়িয়া থানার শালডাঙ্গা-সহ বিভিন্ন আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় খোলামুখ কয়লা খনির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীদের উপযুক্ত পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ, পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু মেমোরিয়াল ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পুনরায় সরকারি ফিডার অনুদান চালু, পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু আবাসিক বিদ্যালয়ের হোস্টেলে কর্মী নিয়োগ, বনাধিকার ও গ্রামসভার সাংবিধানিক ক্ষমতা কার্যকর করা এবং আইকিউ সিটি মেডিকেল কলেজের জন্য জমিহারা আদিবাসী পরিবারগুলিকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন।
এদিনের কর্মসূচিতে পশ্চিম বর্ধমানের বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ যোগ দেন বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। সকাল ছয়টা থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচি সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলাশাসকের দপ্তর চত্বরে চলে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দীর্ঘ আলোচনার পর জেলাশাসক তাঁদের দাবিগুলি খতিয়ে দেখে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
September 01, 2026
Rating:




No comments: