কুলটি -: বিসিসিএলের দমাগোরিয়া বোদিরা কয়লা খনিতে ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর অবশেষে এলাকায় সচেতনতা কর্মসূচি চালাল প্রশাসন। মঙ্গলবার অবৈধভাবে কয়লা উত্তোলনের সময় খনি ধসে পড়ে তিন জনের মৃত্যু হয় এবং গুরুতরভাবে আহত হন আরও দু’জন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে আসে।
দুর্ঘটনার পর বুধবার পুলিশ প্রশাসন, বিসিসিএল এবং সিআইএসএফ যৌথভাবে খনি সংলগ্ন গ্রামের বাসিন্দাদের নিয়ে একটি সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করে। সেখানে আধিকারিকরা স্পষ্ট ভাষায় জানান, দমাগোরিয়া বোদিরা খনি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং সেখানে প্রবেশ করা মানেই মৃত্যুর মুখে পা বাড়ানো।
গ্রামবাসীদের উদ্দেশে কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়, কোনো পরিস্থিতিতেই খনির ভিতরে প্রবেশ করা যাবে না এবং অবৈধ কয়লা উত্তোলন বা বহন থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। আধিকারিকদের দাবি, খনির ভেতরে মাটির ধসের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় সামান্য অসাবধানতাতেই বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
তবে এই দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের ভূমিকা ঘিরে উঠছে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় কুলটি থানার কোনো ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিক কিংবা সিআইএসএফ-এর কোনো সিনিয়র অফিসার ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি নিহতদের পোস্টমর্টেম না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বিরোধী মহল।
বুধবার কুলটি থানার অন্তর্গত চৌরাঙ্গী ফাঁড়ির ইনচার্জ কার্তিক ভুঁইয়া সিআইএসএফ আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে এলাকায় পৌঁছে গ্রামবাসীদের খনির বিপজ্জনক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন এবং ভবিষ্যতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
এদিকে বিরোধীদের অভিযোগ, এই খনি থেকেই দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে শত শত মোটরবাইকে করে অবৈধ কয়লা পাচার চলছে। প্রশ্ন উঠছে, এত বড় বেআইনি কারবার চললেও এতদিন প্রশাসনের নজর এড়াল কীভাবে? প্রশাসন কি কিছুই জানত না, নাকি জেনেও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছিল—তা নিয়েই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মত, সচেতনতা শিবির অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার থেকেও বেশি জরুরি অবৈধ খনন ও কয়লা পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। নাহলে ভবিষ্যতে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। দমাগোরিয়া বোদিরা খনি দুর্ঘটনা প্রশাসনের কাছে এখন এক বড় সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
January 14, 2026
Rating:

No comments: