জামুড়িয়া -: অখিল ভারতীয় ক্ষত্রিয় সমাজ পাবলিক চ্যারিটেবল ট্রাস্ট, পশ্চিম বর্ধমানের উদ্যোগে রবিবার জামুড়িয়ার শ্রীপুর মোড় সংলগ্ন গুঞ্জন পার্কে এক বর্ণাঢ্য বনভোজ ও মিলন সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে সমগ্র শিল্পাঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যক ক্ষত্রিয় সমাজের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সমাজের ঐক্য, উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামুড়িয়ার বিধায়ক হরেরাম সিং এবং বীরভূম জেলার নলহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক রাজেন্দ্র প্রসাদ সিং (রাজু সিং)। এছাড়াও ঝাড়খণ্ড থেকে আগত রণবিজয় সিং সহ সমাজের একাধিক প্রবীণ পদাধিকারী, যুব সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
ঐক্যই শক্তি—বার্তা বিধায়ক হরেরাম সিং-এর
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জামুড়িয়ার বিধায়ক ও ক্ষত্রিয় সমাজের সংরক্ষক হরেরাম সিং বলেন, শিল্পাঞ্চলের গঠন ও বিকাশে ক্ষত্রিয় সমাজের মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিছু কারণে অতীতে সমাজের মধ্যে ঐক্যের অভাব থাকলেও, এ ধরনের মিলন সমাবেশ সেই দূরত্ব দূর করছে এবং ঐক্যের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। তিনি সমাজের এই ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, কোনও সমাজের সার্বিক অগ্রগতিতে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের ভূমিকা অপরিসীম। তাই ক্ষত্রিয় সমাজের নারীদেরও সমাজ গঠনের কাজে সক্রিয় অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা তুলে ধরেন বিধায়ক।
মহারানা প্রতাপের মূর্তি স্থাপনের ঘোষণা
বিধায়ক হরেরাম সিং জানান, বীর শিরোমণি মহারানা প্রতাপ ত্যাগ, বীরত্ব ও আত্মসম্মানের প্রতীক। তাঁর বহুদিনের স্বপ্ন অনুযায়ী খুব শীঘ্রই শিল্পাঞ্চলে মহারানা প্রতাপের মূর্তি স্থাপন করা হবে। মূর্তি স্থাপনের স্থান ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে। এই উদ্যোগ আগামী প্রজন্মের কাছে দেশপ্রেম ও সাহসের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সমগ্র শিল্পাঞ্চল থেকে ব্যাপক উপস্থিতি
এই বনভোজ ও মিলন সমাবেশে আসানসোল, রানিগঞ্জ, জামুড়িয়া, দুর্গাপুর, অন্ডাল, পান্ডবেশ্বর, চিত্তরঞ্জন, কুলটি, বরাকর, পারবেলিয়া, মাইথন, জামতাড়া, ধানবাদসহ সমগ্র শিল্পাঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যক ক্ষত্রিয় সমাজের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারীর অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
অতিথি সংবর্ধনা ও সংগঠকদের ভূমিকা
অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের অঙ্গবস্ত্র, পুষ্পস্তবক ও স্মারক প্রদান করে সম্মান জানানো হয়। এই সফল আয়োজনের পেছনে সমাজের সভাপতি যোগেশ সিং-এর পাশাপাশি রাজেশ সিং, প্রেমপাল সিং, সঞ্জয় সিং, রাজু সিং, সুনীল সিং, রাহুল সিং, জিতেন্দ্র সিং, সানি সিং, বকিল সিং, সত্যেন্দ্র সিং, মনোজ সিং, সন্তোষ সিং ও অরবিন্দ সিং সহ বহু সদস্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
দৃঢ় সংকল্পে সমাপ্তি
অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত সকল ক্ষত্রিয় সমাজের মানুষ সমাজের স্বার্থ, কল্যাণ ও উন্নয়নে নিরন্তর কাজ করার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করেন। পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা নিয়ে এই ভব্য বনভোজ ও মিলন সমাবেশ সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
January 18, 2026
Rating:

No comments: