মুড়ির চড়চড় শব্দে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মিলন শতবর্ষের প্রথা বাঁচিয়ে রেখেছে বাঁকুড়ার কেঞ্জাকুড়ার মুড়ি মেলা
বাঁকুড়া :- কথিত আছে, একদা ভগবান নারায়ণ দেবর্ষি নারদকে সঙ্গে নিয়ে বাঁকুড়ার উপর দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ কানে আসে ‘চড়চড়’ শব্দ। বিস্ময়ে নারায়ণ প্রশ্ন করলে নারদ জানান—“প্রভু, বাঁকুড়ার মানুষ মুড়িতে জল ঢেলেছে।” এই প্রবাদ সত্য হোক বা কল্পকথা, বাঁকুড়ার মানুষের জীবনে মুড়ির যে গভীর সম্পর্ক, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ কেঞ্জাকুড়ার ঐতিহ্যবাহী মুড়ি মেলা।
বাঁকুড়া জেলার কেঞ্জাকুড়ায় দ্বারকেশ্বর নদের চরে বসে এই শতবর্ষ প্রাচীন মেলা। প্রতি বছর মকর সংক্রান্তির পর মাঘ মাসের ৪ তারিখে এখানে ভিড় জমান হাজার হাজার মানুষ। আট থেকে আশি—সব বয়সের মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে নদীর চরে গর্ত করে জল সংগ্রহ করেন এবং সেই জলে মুড়ি ভিজিয়ে উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠেন।
এই ব্যতিক্রমী রেওয়াজের সূত্রপাত হয়েছিল সঞ্জীবনী মাতার আশ্রমের হরিনাম সংকীর্তনকে কেন্দ্র করে। অতীতে দূরদূরান্ত থেকে আসা ভক্তরা জঙ্গলে রাত কাটিয়ে সকালে মুড়ি ভিজিয়ে খেয়ে গৃহে ফিরতেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ধর্মীয় প্রথাই আজ রূপ নিয়েছে এক বৃহৎ লোকউৎসবে।
মুড়ির সঙ্গে থাকে চপ, বেগুনি, পেঁয়াজ, ঘুগনি, লঙ্কা, শসা, নারকেল ও চানাচুর। লোকবিশ্বাস, একসঙ্গে মুড়ি ভিজিয়ে খেলে শরীরে সঞ্জীবনী শক্তি বৃদ্ধি পায়।
আজও কেঞ্জাকুড়ার মুড়ি মেলা শুধুমাত্র একটি উৎসব নয়, বরং বাঁকুড়ার লোকসংস্কৃতি, বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের এক জীবন্ত দলিল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
January 18, 2026
Rating:


No comments: