নিজস্ব প্রতিনিধি, রানীগঞ্জ -: ন্যায্য অধিকার ও উপযুক্ত পারিশ্রমিকের দাবিতে কলকাতার স্বাস্থ্য ভবনে এক সভার আয়োজন করেন রাজ্যের আশা কর্মীরা। দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের দাবিদাওয়া পূরণ না হওয়ায় তারা লাগাতার কর্মবিরতিতে রয়েছেন।
অভিযোগ, বুধবার ভোর সাতটা নাগাদ ট্রেন ধরে ২১ জানুয়ারি স্বাস্থ্য দপ্তরের সভায় যোগ দিতে রানীগঞ্জ ও জামুরিয়া মিলিয়ে প্রায় ৮৫ জন আশা কর্মী একত্রিত হয়ে রেলস্টেশনে উপস্থিত হন। সেই সময় আচমকাই পুলিশ তাঁদের সরে যেতে নির্দেশ দেয়। পুলিশের কাছে কারণ জানতে চাওয়া হলে জানানো হয়, “উপর থেকে অর্ডার আছে।” তবে সেই নির্দেশের কোনও বৈধ নথি পুলিশ দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ। বৈধ ট্রেন টিকিট থাকা সত্ত্বেও আশা কর্মীদের স্টেশন ছাড়তে বাধ্য করা হয়।
আশা কর্মীদের আরও অভিযোগ, শুধু রানীগঞ্জ নয়, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় স্বাস্থ্য ভবন অভিযানে যেতে গিয়ে তাঁদের পুলিশি বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। কোথাও কোথাও আশা কর্মীদের থানায় আটকে রাখা হয়েছে, এমনকি কারও কারও মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। মাঝ রাস্তাতেই আন্দোলনকে রুখে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এই প্রসঙ্গে আশা কর্মী ঝিলিক মণ্ডল বলেন,
“আমাদের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী আমাদের দিকে তাকাচ্ছেন না। উল্টে কাজের চাপ বাড়ানো হচ্ছে। মাসে মাত্র ৫,২৫০ টাকায় কি সংসার চলে? আমাদেরও পরিবার আছে। দিন-রাত একইভাবে পরিশ্রম করতে হয়। শীতের রাতে হোক বা দিনে, গর্ভবতী মহিলাদের রানীগঞ্জ হাসপাতাল থেকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া-আনা আমাদেরই দায়িত্ব। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন ক্যাম্প, এমনকি স্কুলের পরীক্ষার কাজেও আমাদের যুক্ত করা হয়, কিন্তু তার উপযুক্ত পারিশ্রমিক দেওয়া হয় না। ইনসেনটিভও ভাগে ভাগে দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন,
“ভোটে কী হবে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে কী হবে—এসব আমরা বুঝি না। আমরা শুধু আমাদের কাজ বুঝি। সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে চাই, কিন্তু আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। যতদিন না আমাদের দাবি মানা হবে, ততদিন আমরা কর্মবিরতিতেই থাকব।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রানীগঞ্জ রেলস্টেশন চত্বরে কিছুক্ষণের জন্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যদিও কয়েক ঘণ্টা পরে পুলিশের হস্তক্ষেপ ও সচেতনতার ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
January 21, 2026
Rating:

No comments: