পাণ্ডবেশ্বর -:পাণ্ডবেশ্বরের হরিপুর অঞ্চলের ভাটমোড়া গ্রামে অবস্থিত একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ভাঙার অনুমতিপত্রকে ঘিরে শুরু হয়েছে চাঞ্চল্যকর বিতর্ক। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের দিদিমণি মধুমিতা চ্যাটার্জীর নামে সাদা কাগজে লেখা একটি বিবৃতি সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠেছে তাঁর ক্ষমতা ও ভূমিকা নিয়ে। আর সেই বিতর্কের সত্যতা যাচাই করতে গিয়েই বাধা ও হেনস্থার মুখে পড়লেন সাংবাদিকরা।
সাদা কাগজে লেখা ওই বিবৃতিতে উল্লেখ রয়েছে—
“আমি আইসিডিএস কর্মী, ভাটমোড়া গ্রামের ৭১ নম্বর সেন্টারটি নতুন ভাটমোড়া গ্রামে নিয়ে এসেছি। তাই পুরনো গ্রামে যে আইসিডিএস ঘরটি আছে, তা ভাঙার জন্য অনুমতি দিচ্ছি।”
এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী মধুমিতা চ্যাটার্জী।
প্রসঙ্গত, ভাটমোড়া গ্রাম বর্তমানে অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়ে ‘নতুন ভাটমোড়া গ্রাম’ নামে পরিচিত হলেও পুরনো ভাটমোড়া গ্রামে এখনও একাধিক পরিবার বসবাস করছেন। সেখানে রয়েছে একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, যার দায়িত্বে রয়েছেন মধুমিতা চ্যাটার্জী। অভিযোগ, তিনি হঠাৎ করেই নতুন ভাটমোড়া গ্রামে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র স্থানান্তরিত করায় পুরনো ভাটমোড়া গ্রামের শিশুদের পড়াশোনা ও পুষ্টিকর খাবার পরিষেবা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
গ্রামবাসীদের প্রশ্ন, একজন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী কি আদৌ সরকারি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ভাঙার অনুমতি দিতে পারেন? তাঁদের দাবি, পুনর্বাসনের পাশাপাশি নতুন জায়গায় আইসিডিএস কেন্দ্র তৈরি হলেও পুরনো গ্রামের শিশু ও পরিবারের পরিষেবা বন্ধ হওয়া সম্পূর্ণ অন্যায়।
এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সাংবাদিকরা নতুন ভাটমোড়া গ্রামের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পৌঁছান। সেখানে মধুমিতা চ্যাটার্জীর বক্তব্য নিতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের অপেক্ষা করতে বলেন এবং পরে কয়েকজন স্থানীয়কে ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠান। অভিযোগ, এরপর ওই স্থানীয়রা সাংবাদিকদের হেনস্থা করেন এবং ক্যামেরা কেড়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়।
এখন উঠছে একাধিক প্রশ্ন—
যদি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ভাঙার অনুমতির পিছনে কোনও গোপন উদ্দেশ্য না থাকে, তবে সংবাদমাধ্যমকে বাধা দেওয়া হল কেন?
সাংবাদিক হেনস্থা এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ভাঙার অনুমতিপত্র— এই দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বর্তমানে তীব্র বিতর্কের মুখে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী মধুমিতা চ্যাটার্জী।
ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবিতে সরব হয়েছেন পুরনো ভাটমোড়া গ্রামের বাসিন্দারা।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
January 11, 2026
Rating:



No comments: