জাহের থানে পুজোর মধ্য দিয়ে রানীগঞ্জের কদম ডাঙ্গায় সূচনা সাঁওতাল সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সহরায় উৎসব
যীশু হেমব্রম -: বাংলা মাসের ২৫শে পৌষ, শনিবার থেকে শুরু হলো আদিবাসী সাঁওতাল সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান উৎসব সহরায় বা বান্দনা পরব। আজ এই উৎসবের প্রথম দিন। রানীগঞ্জ থানার অন্তর্গত কদমডাঙ্গা পুরো গ্রাম প্রাচীন রীতি ও ঐতিহ্য মেনে এই উৎসব পালন করলেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন।
এদিন গ্রামের আদিবাসীরা একত্রিত হন তাঁদের ধর্মস্থান জাহের থানে। প্রকৃতির নিয়ম মেনে জাহের থানে পুজো সম্পন্ন করেন গ্রামের দুই আদিবাসী পুরোহিত—নায়কে বাবা ও কুডম নায়কে বাবা। তাঁরা আদিবাসীদের আরাধ্য দেবতা মারাংবুরু ও জাহের আয়োর উদ্দেশ্যে পুজো করেন। জাহের থানে পুজোর মাধ্যমে সহরায় উৎসবের সূচনা হয় এবং এরপর আরাধ্য দেবতাকে বরণ করে নেওয়া হয় বাড়িতে।
পুজো শেষে জাহের থানেতেই প্রসাদ বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গ্রামের পাঁচজন মাঝি মোড়লসহ পুরো গ্রামের মানুষজন। প্রাচীন প্রথা অনুসারে ধামসা ও মাদলের তালে তালে সম্পন্ন হয় পুজো ও ধর্মীয় আচার।
এই প্রসঙ্গে আদিবাসী পুরোহিত প্রবীর টুডু জানান, “আমি কদমডাঙ্গা পুরো গ্রামের সাঁওতাল সম্প্রদায়ের পুরোহিত নায়কে বাবা। বংশপরম্পরায় আমাদের পরিবারই এই গ্রামের পুজো করে আসছে। আজও সেই রীতিতেই পুজো করলাম, ভবিষ্যতেও আমাদের পরিবারের লোকেরাই এই দায়িত্ব পালন করবে।”
অন্যদিকে কুডম নায়কে লক্ষীরাম হেমব্রম বলেন, “একটি গ্রামে আমরা দুইজন পুরোহিত আলাদা আলাদা দায়িত্বে পুজো করি। আমার বয়স এখন ৫৫ বছর, ছোটবেলা থেকেই এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত। আগে আমার বাবা এই কাজ করতেন। আজ জাহের থানে মারাংবুরু ও জাহের আয়োর পুজো করে তাঁদের বাড়িতে বরণ করে নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, প্রকৃতির নিয়ম মেনে আগামীকাল থেকে শুরু হবে বাড়ি বাড়ি পুজো। এরপর টানা তিন দিন ধরে চলবে আদিবাসী নৃত্য, গান ও উৎসব গ্রামের মধ্যেই। এক কথায়, আজ থেকে আখান সাকরাত পর্যন্ত নাচ-গান ও খাওয়া-দাওয়ার মধ্য দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে চলবে আদিবাসী সাঁওতাল সম্প্রদায়ের সহরায় বা বান্দনা পরব।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
January 10, 2026
Rating:

No comments: