রাঁচি: -: “পঞ্চায়েত উপবিধান (অনুসূচিত অঞ্চলে সম্প্রসারণ) ঝাড়খণ্ড বিধিমালা, ২০২৫” বা PESA বিধিমালা ২০২৫ পাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঝাড়খণ্ডের পঞ্চম তফসিলভুক্ত এলাকাগুলিতে নতুন গ্রাম ও গ্রামসভার সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
নতুন বিধিমালার নিয়ম ১(ছ), ৩, ৪, ৫ এবং ফর্ম–১ ও ফর্ম–২ অনুযায়ী, পঞ্চম তফসিলি অঞ্চলে বিদ্যমান যে কোনো রাজস্ব গ্রামের প্রতিটি টোলা (পাড়া/হামলেট) আলাদা গ্রাম হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারে। এর ফলে প্রতিটি টোলার জন্য থাকবে পৃথক গ্রামসভা ও পৃথক গ্রামপ্রধান।
এর সরাসরি প্রভাব পড়বে আদিবাসী সমাজের প্রচলিত গ্রাম নেতৃত্ব ব্যবস্থায়। এতদিন একটি রাজস্ব গ্রামের আওতায় একাধিক টোলা থাকলেও সেখানে একজনই থাকতেন প্রচলিত প্রধান—যেমন সাঁওতাল এলাকায় একজন মাঞ্জহী মুন্ডা এলাকায় একজন মুন্ডা, ওরাঁও এলাকায় একজন মহতো বা পাহান। কিন্তু PESA বিধিমালা ২০২৫ কার্যকর হলে এখন প্রতিটি টোলায় সৃষ্টি হবে নতুন নতুন প্রচলিত প্রধানের পদ।
ফলে সাঁওতাল অধ্যুষিত এলাকায় নতুন মাঞ্জহী ও পরগনা, হো এলাকায় নতুন মুন্ডা, মানকি ও দেবরী, মুন্ডা অধ্যুষিত অঞ্চলে নতুন হাতু মুন্ডা, পরহা রাজা ও পাহান, ওরাঁও এলাকায় নতুন মহতো, পরহা বেল ও পাহান, ভূমিজ এলাকায় নতুন মুন্ডা, সরদার, নায়া ও ডাকুয়া, খাড়িয়া এলাকায় নতুন ডোকলো সহর—এভাবে পঞ্চম তফসিলভুক্ত এলাকায় বসবাসকারী প্রায় সব আদিবাসী জনগোষ্ঠীতেই প্রচলিত প্রধানের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।
বিধিমালার নিয়ম ৩, ৪, ৫ ও ফর্ম–১ এবং ফর্ম–২ অনুযায়ী, জেলা শাসক (DC)-এর ওপর দেওয়া হয়েছে প্রচলিত গ্রামসভা, গ্রামসভা ও তাদের সীমানা স্বীকৃতি দেওয়ার দায়িত্ব। জেলা শাসক প্রতিটি ব্লকে একটি করে বিশেষ দল গঠন করবেন, যারা প্রচলিত প্রধান ও গ্রামসভার সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে গ্রামসভার সীমানা নির্ধারণ করবেন এবং একটি সরকারি রেকর্ড প্রস্তুত করবেন।
এই রেকর্ডে ফর্ম–১ অনুযায়ী টোলা গ্রামসভা, টোলা গ্রামপ্রধান, তাঁদের যোগাযোগের বিবরণ এবং প্রচলিত ক্ষমতার বিস্তারিত তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই সমস্ত তথ্য টোলা গ্রামসভা ও প্রচলিত গ্রামসভায় লিখিত প্রস্তাবের মাধ্যমে গৃহীত হবে।
পরবর্তীতে জেলা শাসক এই তথ্যগুলি প্রকাশ করে আপত্তি আহ্বান করবেন। আপত্তি শুনানির পর সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে ফর্ম–২ অনুযায়ী নতুন গ্রামসভাগুলির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে।
এর ফলে বাস্তবে এখন জেলা শাসকই নির্ধারণ করবেন—কোনটি প্রচলিত গ্রামসভা এবং তার সীমানা কী হবে। প্রশাসনিক এই নতুন ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে ঝাড়খণ্ডের পঞ্চম তফসিলভুক্ত এলাকায় বড়সড় সামাজিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
January 05, 2026
Rating:

No comments: