রানীগঞ্জ, পশ্চিম বর্ধমান -: জাতীয় সড়কের ধারে আচমকাই মাটিতে ধস। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ খুঁটির গোড়ায় প্রায় ৫ থেকে ৬ ফুট গভীর গর্ত তৈরি হওয়ায় রবিবার বিকেলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় রানীগঞ্জের শিশুবাগান মোড় এলাকায়। ঘটনাকে ঘিরে বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার বিকেল প্রায় ৪টে নাগাদ নজরুল মূর্তির বিপরীতে ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে একটি বিদ্যুৎ খুঁটির গোড়ার মাটি হঠাৎ বসে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই সেখানে তৈরি হয় গভীর গর্ত। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সেই সময় গর্তের একেবারে কিনারায় একটি টোটো দাঁড়িয়ে ছিল। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে টোটোটিকে সরিয়ে নেওয়ায় বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
শিশুবাগান মোড় এলাকাটি অত্যন্ত ব্যস্ত হওয়ায় এই ঘটনায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে প্রচুর যানবাহন চলাচল করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রায় তিন বছর আগেও একই এলাকার কাছাকাছি মাটিতে ধস নেমেছিল। ফের একই জায়গায় মাটি বসে যাওয়ায় ধসের কারণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
স্থানীয়দের একাংশের মতে, এলাকাটির নীচ দিয়ে পুরনো নিকাশি নালার অস্তিত্ব রয়েছে। বৃষ্টির জলে সেই নালার আশপাশের মাটি সরে গিয়েই ধস নেমে থাকতে পারে। আবার শিশুবাগান ও ডোমপাড়া এলাকায় একসময় বড় জলাশয় বা ঝিল ছিল বলেও স্থানীয়দের দাবি। পুরনো কয়লা খনি এলাকার কারণে সেই জমির একাংশ বসে যাওয়ার ইতিহাসও রয়েছে বলে তাঁদের বক্তব্য।
তবে ধসের প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বৃষ্টির জলে মাটি সরে গিয়েই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং খুঁটির গোড়া দ্রুত মাটি দিয়ে ভরাট করলেই সমস্যার সমাধান হতে পারে। অন্যদিকে, বারবার একই এলাকায় মাটি বসে যাওয়ার ঘটনায় জাতীয় সড়ক ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ খুঁটির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।
ঘটনার পর স্থানীয়রা আপাতত গর্তের আশপাশে সতর্কতামূলক নজরদারি শুরু করেছেন। বিদ্যুৎ দপ্তর ও প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পরই ধসের প্রকৃত কারণ এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা মিলবে বলে জানা গেছে।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
August 09, 2026
Rating:

No comments: