জামুড়িয়া -: আগাম কোনও নোটিশ ছাড়াই তিনটি গ্রামে ইসিএলের বিদ্যুৎ পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়াল জামুড়িয়ায়। সোমবার সকাল থেকেই চিঁচুড়িয়া, ডোবরানা ও চিঁচুড়িয়া ডাঙ্গালপাড়ার বহু বাসিন্দা একত্রিত হয়ে ইসিএলের সোনপুর বাজারী এরিয়া অফিসের গেটের সামনে বিক্ষোভে সামিল হন। গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ ও লাগাতার স্লোগানে কার্যত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সোমবার গভীর রাতে আচমকাই ওই তিনটি এলাকায় ইসিএলের বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। আগে থেকে কোনও নোটিশ বা সতর্কবার্তা না থাকায় রাতারাতি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েন বহু পরিবার। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে থাকা পরিবারগুলির দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায় বলে দাবি তাঁদের।
সোমবার সকাল হতেই ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা দলবদ্ধভাবে সোনপুর বাজারী এরিয়া অফিসে পৌঁছে বিক্ষোভ শুরু করেন। একাধিকবার ইসিএলের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলে দ্রুত বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করার দাবি জানানো হয়।
গ্রামবাসী শংকর ব্যানার্জির অভিযোগ, প্রায় আট থেকে দশ বছর ধরে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে ইসিএলের বিদ্যুৎ পরিষেবা চালু রয়েছে। তাঁর দাবি, বেশ কিছুদিন ধরেই এই পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, এলাকার মানুষকে পরিষেবা না দিয়ে ইসিএল শুধু এখান থেকে লাভ করছে—এমনটা মেনে নেওয়া হবে না। গ্রামে বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ রাখা হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
অন্যদিকে, চিঁচুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা অম্বিকা ব্যানার্জি জানান, তাঁর পরিবারের একমাত্র ভরসা ইসিএলের বিদ্যুৎ পরিষেবা। পরিবারের আর্থিক সমস্যার কারণে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় তাঁরা বিকল্প বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে পারেননি বলেও জানান তিনি। বাড়িতে ছোট সন্তান থাকায় আচমকা বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম সমস্যায় পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।
এদিন সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দ্রুত এই সমস্যার সমাধানের আবেদন জানান অম্বিকা ব্যানার্জি। তাঁর কথায়, বিদ্যুৎ পরিষেবা দ্রুত স্বাভাবিক না হলে তিন গ্রামের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
শেষ পর্যন্ত গ্রামবাসীদের দাবি ও বিক্ষোভের পর পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করেন জামুড়িয়ার বিধায়ক ডঃ বিজন মুখার্জি। গ্রামবাসীদের দাবি, তাঁর হস্তক্ষেপের পর সংশ্লিষ্ট তিনটি এলাকায় ইসিএলের বিদ্যুৎ পরিষেবা পুনরায় চালু করা হয়। বিদ্যুৎ ফিরে আসার পর বিক্ষোভ প্রত্যাহার করেন গ্রামবাসীরা।
তবে, আগাম নোটিশ ছাড়া কেন বিদ্যুৎ পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়ে ইসিএলের পক্ষ থেকে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
August 10, 2026
Rating:


No comments: