নিজস্ব সংবাদদাতা, রানীগঞ্জ -: ডিজিটাল যুগে সাইবার প্রতারণার বাড়বাড়ন্ত, পাশাপাশি নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধের ক্রমবর্ধমান প্রবণতার মধ্যে স্কুলছাত্রীদের নিরাপত্তা ও সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিল আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের রানীগঞ্জ থানা। বুধবার রানীগঞ্জের বল্লভপুর রামগোপাল সরাফ বিদ্যাপীঠের সভাকক্ষে আয়োজিত হয় এক বিশেষ সচেতনতা শিবির, যেখানে ছাত্রীদের সামনে সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয় ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, সাইবার অপরাধ এবং বাল্যবিবাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কয়লাঞ্চলের বিভিন্ন বালিকা ও কো-এড বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের সচেতন করে তোলার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে এই কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে এদিনের শিবিরে উপস্থিত ছাত্রীদের বাস্তব জীবনের নানা উদাহরণ দিয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়।
শিবিরে নিমচা ফাঁড়ির আইসি নাসরিন সুলতানা ‘ভালো স্পর্শ’ ও ‘মন্দ স্পর্শ’-এর পার্থক্য, অপরিচিত ব্যক্তির প্রলোভন বা প্রতারণার কৌশল এবং শারীরিক ও যৌন হেনস্থার মতো পরিস্থিতিতে কীভাবে দ্রুত ও সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি ছাত্রীদের যেকোনো অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে নীরব না থেকে পরিবার, শিক্ষক কিংবা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
অন্যদিকে, বল্লভপুর ফাঁড়ির আইসি পার্থ চক্রবর্তী সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতামূলক বক্তব্য রাখেন। তিনি জানান, অচেনা লিঙ্কে ক্লিক করা, ওটিপি বা ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করা, সোশ্যাল মিডিয়ায় অপরিচিতদের সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রদান কিংবা সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভনে পা দেওয়া কতটা বিপজ্জনক হতে পারে। এসব বিষয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি সন্দেহজনক ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এদিনের কর্মসূচিতে বাল্যবিবাহের সামাজিক ও আইনি কুফল নিয়েও ছাত্রীদের অবহিত করা হয়। পাশাপাশি এমন ঘটনা নজরে এলে কীভাবে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, সেই বিষয়েও প্রয়োজনীয় তথ্য তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শান্তনু রায়-সহ শিক্ষক-শিক্ষিকারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান শিক্ষক বলেন, বর্তমান সময়ে এই ধরনের সচেতনতামূলক উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্রীরা যাতে নিজেদের নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন হয়, সেই লক্ষ্যেই পুলিশের এই উদ্যোগ বিশেষভাবে প্রশংসনীয়।
শিবিরে অংশ নেওয়া এক ছাত্রী জানায়, আগে অনেক বিষয় সম্পর্কে তাদের স্পষ্ট ধারণা ছিল না। এদিনের আলোচনা থেকে তারা এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পেরেছে, যা ভবিষ্যতে বাস্তব জীবনে কাজে লাগবে।
রানীগঞ্জ থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কয়লাঞ্চলের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে এই ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি আগামী দিনেও ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে। পুলিশের লক্ষ্য, নতুন প্রজন্মের ছাত্রীদের আরও সচেতন, আত্মবিশ্বাসী এবং নিরাপদ করে তোলা। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও ছাত্রীরা রানীগঞ্জ থানা এবং আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটকে ধন্যবাদ জানান।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
August 05, 2026
Rating:

No comments: